kazi ashraful islam

kazi ashraful islam

Sunday, December 25, 2011

চাপের মুখে বিএনপি


লোটন একরাম
'গোপন কর্মসূচির' মাধ্যমে ঢাকায় 'গুপ্ত হামলার' অভিযোগে সরকারের 'কঠোর চাপের মুখে' পড়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ওই ঘটনার পর থেকে সরকার আর কোনো কর্মসূচিই পালন করতে দিচ্ছে না দলটিকে। পরপর তিনটি কর্মসূচিই পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় 'কার্যত' পুলিশ অবরুদ্ধ করে রাখছে। কার্যালয়ের সামনেও দলের নেতাকর্মীরা দাঁড়াতে পারছেন না। সরকারের এই মারমুখী আচরণে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। সহিংসতার অভিযোগে ১১ মামলায় ৭ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ফলে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় নেতারা। মহাজোট সরকারের তিন বছরের শাসনামলে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে এমন বেকায়দায় পড়েনি বিএনপি। মূল দলের করুণ অবস্থায় চারদলীয় জোটের শরিক ও সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরাও এখন গা বাঁচিয়ে চলছেন।
জানা গেছে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড। দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন, নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়, মামলা-হামলার ভয় ও বাধাবিঘ্ন উপেক্ষা করে এগিয়ে আসা এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলন জোরদার করে দলকে প্রস্তুত করতে চান তারা। এ লক্ষ্যে শিগগির সাংগঠনিক সফরে যাবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। গতকাল দলের ভারপ্রাপ্ত
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেন। একইসঙ্গে আগামী ৮-৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ সফল করতেও জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী দল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, মহাজোট সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে সরকার পুলিশকে দিয়ে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনে বাধা দিচ্ছে। সরকার ফ্যাসিস্ট চরিত্র ধারণ করেছে দাবি করে তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবেন। গণজোয়ারের মুখে সরকারের সব বাধাবিঘ্ন উড়ে যাবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন ফখরুল।
অবশ্য আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, যুদ্ধাপরাধী এবং নিজের দুই ছেলে তারেক-কোকোর বিচার বানচাল করতে খালেদা জিয়া দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছেন। বিরোধী দল যখন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছে তখন পুলিশ বাধা দেয়নি। পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষায় এখন বিরোধী দলকে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালাতে দিচ্ছে না। সরকার কাউকে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেবে না।
গত ১৮ ডিসেম্বর ভোরে আকস্মিকভাবে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বোমা বিস্ফোরণ, ভাংচুর, গাড়িতে অগি্নসংযোগে একজন নিহত হন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ এবং সিলেটে বাসে অগি্নসংযোগে এক যাত্রী অগি্নদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সরকারের মন্ত্রীরা ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এ গুপ্ত হামলা চালিয়েছে। তবে বিএনপি নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, সংবর্ধনা নিতে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের 'রিসিভ' করতে বিএনপি কর্মীরা সমবেত হলে পুলিশ হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে 'হার্ডলাইন' অবস্থান গ্রহণ করে মহাজোট সরকার। পরপর দুটি কর্মসূচি পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর গতকাল শনিবার তৃতীয় কর্মসূচি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। আগামীকাল সারাদেশের জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করার কর্মসূচি রয়েছে।
সরকারের এ 'কঠোর' অবস্থানের মুখে আগামী ৮-৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম অভিমুখে দলের রোডমার্চে ব্যাপক লোক সমাগম ঘটিয়ে সফল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। বৈঠকে পুলিশি বাধায় দলের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করছেন নেতারা। তবে কর্মসূচিতে 'জনগণের ব্যাপক সম্পৃক্তি'র মাধ্যমে সব ধরনের বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে। চট্টগ্রাম রোডমার্চ সফল করতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রোডমার্চের প্রধান সমন্বয়কারী এম কে আনোয়ারের নেতৃত্বে আজ কুমিল্লা ও ফেনী এবং আগামীকাল চট্টগ্রামে প্রস্তুতি সভা করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
বিএনপির কয়েকজন নেতা সমকালকে জানান, সরকার পুলিশ দিয়ে পরপর কয়েকটি কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চে সরকার বাধা দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। বাধা এলেও যাতে রোডমার্চ সফল করা যায় তা নিয়ে বৈঠকে কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
ঘুরে দাঁড়াতে শিগগির সাংগঠনিক সফরে যাবেন নেতারা : সরকারের কঠোর চাপের মুখে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে গতকাল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে শিগগির জেলা বিএনপির দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন করে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়। একইসঙ্গে নিষ্ক্রিয় ও কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে দলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ লক্ষ্যে শিগগির যুগ্ম মহাসচিবদের নেতৃত্বে শিগগির জেলা সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দু'একদিনের মধ্যে দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলোচনা করে দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
বৈঠকে দলের যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, বরকতউল্লাহ বুলু, মোঃ শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, রিজভী আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, গোলাম আকবর খোন্দকার, মশিউর রহমান ও মজিবুর রহমান সরোয়ার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কোনো প্রেস ব্রিফিং করা হয়নি।
বৈঠক সম্পর্কে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লা বুলু সমকালকে বলেন, শিগগির সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে যেসব জেলায় নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বাকি আছে_ তা সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলকে আন্দোলন ও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করতে সাংগঠনিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
অপর যুগ্ম মহাসচিব মোঃ শাহজাহান বলেন, রোডমার্চে জনগণের যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে তাকে সামনে রেখে দলকে আরও গতিশীল করতে প্রস্তুত তারা। ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, বিএনপির পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনগুলোকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Wednesday, December 21, 2011

চোরাগোপ্তা হামলার ছক বিএনপি-জামায়াতের-রিমান্ডে গ্রেপ্তারকৃতদের চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাখাওয়াত হোসেন

ঢাকাসহ বিভাগীয় বড় শহরগুলোতে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াত-বিএনপির। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতেই অত্যন্ত গোপনে দলের শীর্ষ পর্যায়ে এ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। তবে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব মাঠ পর্যায়ের নেতাদের কাছে পেঁৗছার পর তারা তা গোপন রাখতে পারেননি। রাজধানীতে ভয়াল তা-বের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশি রিমান্ডে এসব তথ্য দিয়েছেন।
তারা জানিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াত পৃথকভাবে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও রোববার রাজধানীতে বোমাবাজি, ভাংচুর, গাড়িতে আগুন ও পুলিশের ওপর হামলাসহ সব ধরনের তা-বে তারা সম্মিলিতভাবে অংশ নেন। বোমা-ককটেল দিয়ে একে অপরকে সহায়তা করার কথাও তারা স্বীকার করেন তারা।
গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি-জামায়াতের একাধিক নেতা পুলিশি রিমান্ডে গোয়েন্দাদের জানান, রোববার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে তা-ব চালানোর পর ধরপাকড় শুরু হলে সংঘবদ্ধভাবে মাঠে নামা কঠিন হবে এ বিষয়টি মাথায় রেখেই চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে যাওয়ার ছক তৈরি করা হয়। বিষয়টি সমন্বয়ের দায়িত্বও আগেভাগেই নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে বলে গ্রেপ্তারকৃতরা গোয়েন্দাদের কাছে স্বীকার করেছেন।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিএনপি-জামায়াতের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতার নাম পাওয়া গেছে। তারাই মূলত আড়ালে থেকে চোরাগোপ্তা হামলার সমন্বয় করছেন। তদন্তের স্বার্থে গোয়েন্দারা তাদের নাম ও সংখ্যা জানাতে চাননি।
তবে দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী সোহেল, সাধারণ সম্পাদক সরাফতউল্লাহ সফু, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম-আহ্বায়ক ওবায়দুল হক নাসিরসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতার টেলিফোন ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। তাদের গতিবিধি মনিটরিংয়েরও নির্দেশ রয়েছে।
এদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তাসনীম আলম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এবং জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমেদ, নায়েবে আমির মওলানা একেএম ইউসুফ, আবদুস সোবহান, একেএম নাজির আহমদ, জামায়াতের ঢাকা মহানগর কমিটির আমির রফিকুল ইসলাম খান, সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম, মওলানা আবদুল হালিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফখরুদ্দিন মানিক ও সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন এবং এদের সেকেন্ড-ইন কমান্ডদের টেলিফোন ট্র্যাকিংয়ের পাশাপাশি তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত রোববার পুলিশের গাড়িতে অগি্নসংযোগ, বোমাবাজি, ভাংচুর ও পুলিশের ওপর হামলাসহ নানা তা-বের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১১৯ জন নেতাকর্মীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এদের কেউ কেউ মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও অনেকেই নির্দ্বিধায় তা-বের কথা স্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশেই তারা পুলিশের ওপর হামলা চালান। অংশ নেন বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকা-ে, যা পুরোটাই ছিল পূর্ব পরিকল্পিত।
এছাড়াও পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, মোবাইল ফোনের কললিস্ট, আহত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে পল্টন তা-বে অংশগ্রহণকারী ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি-জামায়াত নেতারা। তারা জানিয়েছেন, পুলিশবাহিনীকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলতেই পরিকল্পিত এ হামলা চালানো হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতেই রাজপথে তারা শোডাউন করেন। পরে বিভিন্ন উস্কানিমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে তা-ব পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়।
মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, দ্রুত বিচার আইনের যে অপরাধ সেটার অনেকগুলো সাক্ষ্যপ্রমাণই আছে- যা ইতোমধ্যেই সংগৃহীত হয়েছে। রিমান্ডে থাকা বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের নগরজুড়ে তা-বে অংশগ্রহণ ও মদদ দেয়া সংক্রান্ত জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন গোয়েন্দারা। এছাড়াও তাদের দেয়া তথ্য-উপাত্ত ক্রসচেক করে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে।
পুলিশি রিমান্ডে গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা জানান, হরতাল-লংমার্চ করে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত করতে না পারায় সরকারের পতন ঘটানোর জন্য তা-ব চালানোর এ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এই ছক বাস্তবায়ন করার জন্য দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে সশস্ত্র চরমপন্থী সন্ত্রাসীদেরও ভাড়া করে ঢাকায় আনা হয়। চট্টগ্রামের শিবিরপন্থী অর্ধশতাধিক শীর্ষ ক্যাডারকেও সংযুক্ত করা হয়েছিল এই পরিকল্পনার সঙ্গে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও টঙ্গীসহ ঢাকার উপকণ্ঠের কয়েকটি মাদ্রাসায়ও সশস্ত্র শিবির ক্যাডারদের প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিক এ হামলার শুরুতেই পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠলে তাদের ছক অনুযায়ী তা-ব চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তারা চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়েই সরে যাওয়ার চেষ্টা চালায়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বিএনপি-জামায়াত চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে গ্রেপ্তারকৃতরা যে তথ্য দিয়েছেন তার সত্যতা পাওয়া গেছে। সোর্সের মাধ্যমে এ ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর বেশকিছু তথ্য-উপাত্ত উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ধানম-ির সায়েন্সল্যাবরেটরি রোডের মাল্টিপ্ল্যান কমপ্লেক্সের সামনে চোরাগোপ্তা হামলা চালানো হয়। অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা এ সময় সেখানে রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা একটি ট্যাক্সিক্যাবে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কেউ হতাহত না হলেও গাড়িটি পুড়ে ভস্মীভূত হয়। প্রায় একই সময় নিউমার্কেট ফুটওভার ব্রিজ, ধানম-ি ও মোহাম্মদপুরে বেশ কয়েকটি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
গোয়েন্দাদের ধারণা, বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা চোরাগোপ্তা হামলা চালানোর জন্য সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে নগরীতে র‌্যাব-পুলিশের টহল জোরদার, মোবাইল চেকপোস্ট এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বাসা-বাড়ি, বস্তি ও বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে তল্লাশি অভিযান চলায় তারা ছক অনুযায়ী হামলা চালাতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহমেদ জানান, চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ সর্তক রয়েছে। রাজধানীর গুরুতপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন বোমাবাজ, অগি্নসংযোগকারী ও ভাংচুরসহ বিভিন্ন নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের ধরপাকড় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৩০ কোটি টাকার বাজেট পরিকল্পনাকারীরা চিহ্নিত


বিশেষ প্রতিনিধি
রাজধানীতে গত রোববারের সহিংস ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। রিমান্ডে থাকা আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ মূল পরিকল্পনাকারীদের কয়েক-জনকে শনাক্ত করেছে। ঢাকা অচল করে সরকার পতনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৩০ কোটি টাকার বাজেট করা হয়েছিল। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নেপালে পরিকল্পনাকারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়, মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার নামে কীভাবে রাজধানীতে অবস্থান করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। গ্রেফতার হওয়া একজন যুদ্ধাপরাধী ও বিএনপির এক নেতা পরিকল্পনাকারীদের টাকার জোগান দেন। পুলিশ, ডিবি ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। কারা অর্থের জোগান দিয়েছেন আমরা এরই মধ্যে তাদের নাম জানতে পেরেছি।
অন্যদিকে গতকাল ডিএমপি সদর দফতরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের এক সভায় ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ সহিংসতায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববারের ভাংচুর ও অগি্নসংযোগের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা দফতরে ন্যস্ত হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ডিসি (দক্ষিণ) মনিরুল ইসলাম সমকালকে জানান, রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাজধানীতে বড় ধরনের
নাশকতা সৃষ্টির জন্যই লোকজন জড়ো করা হয়েছিল। নাশকতাকারীদের পরিকল্পনা ছিল মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেবে। সেখান থেকে সরকার পতনের ডাক দিয়ে প্রেস ক্লাব ও সচিবালয়ের আশপাশে অবস্থান নিয়ে ঢাকা অচল করে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থের জোগানদাতা, হামলা বাস্তবায়নে যারা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছেন তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
রিমান্ডে আসামিদের দেওয়া তথ্য সম্পর্কে ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে আসামিরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মামলার তদন্তে অনেক সহায়ক হবে। তিনি বলেন, আসামিদের তথ্যমতে ওই ঘটনায় ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। রিমান্ডে বেরিয়ে আসা বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তদন্তে যাদের নামই আসবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এখানে কোনো পদ-পদবি দেখা হবে না।
একটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্র সমকালকে জানায়, পরিকল্পনাকারীদের কয়েকজন চলতি মাসের প্রথমদিকে নেপাল যান। সেখানে তারা নাশকতার ছক চূড়ান্ত করে দেশে ফেরেন। রোববার একটি গোয়েন্দা সংস্থা পরিকল্পনার বিষয়টি টের পায়। এরপর তারা ব্যাপক নজরদারি শুরু করে। আবার গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়টি টের পান পরিকল্পনাকারীরা। এরপর তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লুকিয়ে কীভাবে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন_ এ ফন্দি আঁটতে গুলশানে একটি বারে বসেন। সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় ওই বারেও অভিযান চালায়। তবে আগেই সটকে পড়েন পরিকল্পনাকারীরা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, হামলার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে কারা পরে তদারক করেছেন, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। কারা মোবাইল ফোনে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাদেরও নাম পাওয়া গেছে। কাদের মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া করে ঢাকায় ১ লাখ মানুষ জড়ো করার পরিকল্পনা ছিল, তাদের সবাইকে এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। মামলার আসামিদের ধরতে নগরী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান গোয়েন্দারা।
ডিএমপি ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কয়েক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিমান্ডে আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের যেসব নেতার নাম এসেছে তারা হলেন_ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, যুবদল উত্তরের সভাপতি হাসান মামুন, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীমসহ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক পদধারী আরও পাঁচজন এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও জাসাসের মহানগর কমিটির শীর্ষ কয়েক নেতা।
রোববার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাংচুর, অগি্নসংযোগ, পুলিশ আক্রান্তের ঘটনায় শাহবাগ, রমনা, পল্টন, মতিঝিল, তেজগাঁও ও বাড্ডা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ১১টি মামলা করেছে। এসব মামলায় পুলিশ মোট ১১৯ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পল্টন থানায় গ্রেফতারকৃত ঢাকার দোহারের বাসিন্দা রহিম খন্দকার, আবুল হাসান ও উজ্জ্বল জানান, দোহারের এক বিএনপি নেতার নির্দেশে তারা রোববার সকালে ৪০ সদস্যের একটি টিম নিয়ে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় পাঠানোর সময় বলা হয়েছিল, খাওয়ার ও হাত খরচের টাকা দেওয়া হবে। তাদের দায়িত্ব বিএনপি নেতাদের নির্দেশে রাস্তায় বসে থাকা। কিন্তু রোববার খুব ভোরে পিকআপ ভ্যানে করে গুলিস্তানের মুক্তাঙ্গন এলাকা থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। পুলিশ রহিম খন্দকারের কাছ থেকে একটি ৪০ সদস্যের তালিকা উদ্ধার করে।
একইভাবে রাজধানীর শাহবাগ থানায় রিমান্ডে থাকা ২৬ আসামির মধ্যে অধিকাংশের বাড়ি সাভার এলাকায়। একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর তাদের ৫০-৬০ জনের একটি টিম রোববার ভোরে গাড়ি ভাড়া করে ঢাকায় পাঠান। তারা শাহবাগ এলাকায় ভাংচুর করার সময় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি কৃষ্ণপদ রায় সমকালকে বলেন, রমনা থানায় করা দুটি মামলায় ৪২ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের অধিকাংশের বয়স ১৭ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। তাদের সাভার ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ভাড়া করে আনা হয়।
মঙ্গলবার রিমান্ডের প্রথম দিন শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে রোববারের ঘটনায় আরও বেশ ক'জন বিএনপি নেতার নাম বেরিয়ে এসেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সূত্রপাত করেছিল জামায়াত। কাকরাইলে মিছিল করার মাধ্যমে তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে; কিন্তু নগরীর বিভিন্ন স্থানে যখন বিএনপি কর্মীরা রাস্তায় নেমে আসে তখনই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সরে পড়ে। আর এ কারণেই পরে মাঠে জামায়াতকে পাওয়া যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গোয়েন্দা তথ্যমতে, ঘটনার সময় কর্মীরা এসব নেতার কাছে নির্দেশনা চেয়েছিল। নির্দেশ অনুযায়ী তারা মাঠে এসব সংঘর্ষ, ভাংচুর, অগি্নসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।

Wednesday, December 14, 2011

মুজিবনগর সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারি ছিলেন জিয়াউর রহমান

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আপনি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করবেন না। তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। তাদের বাঁচাতে পারবেন না। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বাঁচাতে চেয়েও পারেননি। এমন একদিন আসবে, যে দিন যুদ্ধাপরাধের যারা রক্ষা করতে চেয়েছে, তাদেরও বিচার ভবিষ্যত্ প্রজন্ম চাইবে।’
খালেদা জিয়া সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উনি এতিমের টাকা খেয়েছেন। ছেলের মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে এফবিআই কর্মকর্তারা এসেছে। তাঁদের লজ্জা নেই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন জিয়াউর রহমান। অথচ জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানের অস্ত্রবোঝাই জাহাজ সোয়াত খালাস করেছিলেন। সেই অস্ত্র দিয়ে বহু বাঙালিকে হত্যা করা হয়।’
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। dainik prothom alo

Friday, November 4, 2011

 পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন তৃতীয়

বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বিশ্বে মোট পোশাক রপ্তানির সাড়ে চার শতাংশ বাংলাদেশ একাই রপ্তানি করে।
এক বছর আগেও বিশ্বে বাংলাদেশ ছিল পঞ্চম স্থানে। এক লাফে এবার তুরস্ক ও ভারতকে সরিয়ে তৃতীয় স্থানটি দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান ২০১১’ দলিল থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে মূলত ২০১০ সালে বিশ্ব বাণিজ্যের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানির বাজার পরিসংখ্যানও আছে।
ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যান অনুসারে, বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে প্রথম স্থানটি চীন ধরে রেখেছে। বাজারে চীনের অংশ ৩৬ দশমিক ৯০ শতাংশ। আগের বছরও (২০০৯) শীর্ষস্থানে ছিল। তখন অবশ্য অংশ ছিল ৩৪ শতাংশ।
২০০৯ সালের মতো এবারও দ্বিতীয় স্থানে আছে ২৭ দেশের সমন্বয়ে গঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এবার তাদের অংশ ২৮ দশমিক ১০ শতাংশ। গতবার ছিল ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্ববাজারে তাদের অংশীদারি কমছে।
২০০৯ সালে বিশ্ব রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অংশ ছিল ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১০ সালে তা ২৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। এর ফলে ২০০৯ সালের পঞ্চম অবস্থান থেকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে।
বিপরীতে গতবার তৃতীয় স্থানে থাকা তুরস্ক নেমে গেছে চতুর্থ স্থানে। ২০১০ সালে বিশ্ববাজারে তুরস্কের তৈরি পোশাকের অংশ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, যেখানে আগেরবার ছিল ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। অবশ্য পরিমাণগত দিক থেকে তুরস্কের মোট রপ্তানি ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে ১০ শতাংশ বেড়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি হওয়ায় বাজার হিস্যায় এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
চতুর্থ স্থানে থাকা ভারত ২০১০ সালে আরেক ধাপ নেমে পঞ্চম স্থানে চলে এসেছে। বিশ্ব রপ্তানি বাজারে ভারতের তৈরি পোশাকের অংশ আগেরবারের ৩ দশমিক ৬০ শতাংশের চেয়ে কমে হয়েছে ৩ দশমিক ২০ শতাংশ।
ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যান অনুসারে, এই সময়কালে ভারতের মোট রপ্তানি কমেছে ৬ শতাংশ। শীর্ষ ১০ তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ভারতের রপ্তানিই এই সময়কালে কমেছে।
অন্যদিকে শীর্ষ ১০ তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে থাকা ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি হয়েছে সবচেয়ে বেশি, ২৭ শতাংশ। ২০১০ সালে পোশাক রপ্তানির বিশ্ববাজারে ভিয়েতনামের অংশ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ, যেখানে ২০০৯ সালে এই হার ছিল ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
ডব্লিউটিওর এই পরিসংখ্যানে অবশ্য হংকংয়ের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখ করা হলেও তা চীনে অভ্যন্তরীণ ও পুনঃ রপ্তানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই শীর্ষ ১৫ তালিকায় রপ্তানির পরিমাণগত দিক থেকে হংকংয়ের অবস্থান তৃতীয় দেখা গেলেও বৈশ্বিক বাজারে হিস্যা খুবই নগণ্য (দশমিক ২০ শতাংশ)।
যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইইউর ২৭টি দেশকে আলাদাভাবে দেখা হলে বাংলাদেশ আসলে দ্বিতীয় স্থানে। চীনের পরই তাহলে বাংলাদেশ। এটা বাংলাদেশি পোশাক খাতের অগ্রগতির ও সম্ভাবনার একটি বড় নির্দেশক। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই অবস্থান ধরে রাখা।’
ফজলুল হক ব্যাখ্যা করে বলেন, বিশ্বমন্দায় বাংলাদেশের পোশাক খাতও এখন চাপের মুখে আছে। তবে এটা সাময়িক। গোটা শিল্প কোনো হুমকির মুখে নেই। তবে অবকাঠামোর অপ্রতুলতা, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি ও অপরিকল্পিত শিল্পায়ন পোশাক খাতের সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ণের ক্ষেত্রে বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিকেএমইএর সাবেক এই সভাপতি আরও মনে করেন, বাংলাদেশি পোশাকপণ্য নির্দিষ্ট বাজারে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। কাজেই বৈশ্বিকভাবে সৃষ্ট সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই অবস্থা থেকেও বের হয়ে আসতে হবে।
daily prothom alo news

প্রাচ্যের ‘প্লে-বয়’দের গল্প!

হঠাৎ করেই ভারতীয়দের হাতে অনেক টাকা চলে এসেছে। এই টাকা তারা কোথায় খরচ করবে—তা ভেবে পাচ্ছে না। বিশাল অর্থনীতির এই দেশ। ব্যবসা করলেই কোটিপতি। নিজেদের পরিবার-পরিজন সামলিয়েও হাতে থাকে অনেক কাঁচা টাকা। সেই টাকা এখন তারা খরচ করছে জুয়ায়। জুয়া এখনো সামাজিকভাবে ভারতে অগ্রহণযোগ্য ব্যাপার হলেও এই জুয়ায় ভারতীয়রা লগ্নি করছে কোটি কোটি ডলার। বিখ্যাত ভারতীয় ইংরেজি সাময়িকী ইন্ডিয়া টুডের অক্টোবর সংখ্যায় ভারতীয়দের হঠাত্ পেয়ে বসা জুয়ার নেশা নিয়ে ছাপা হয়েছে দারুণ রোমাঞ্চকর এক প্রতিবেদন। এ প্রতিবেদনটি পড়লে অবাক হতে হয়, আশ্চর্য হতে হয়, যে দেশ এখনো তার সব নাগরিকের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি, যে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে যেখানে এখনো ক্ষুধা মূল সমস্যা, যারা নিশ্চিত করতে পারেনি নাগরিকের স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সুবিধা, সে দেশের নাগরিকেরা জুয়া খেলে কোটি কোটি ডলার খরচ করছে—ব্যাপারটি অবাক হওয়ার মতোই।
ভারতে জুয়া আইনসিদ্ধ কেবল দুটি স্থানে। গোয়া ও সিকিম। এ দুই জায়গা ছাড়া পুরো ভারতে জুয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মোটামুটি কঠোর আইন। ১৮৬৭ সালের পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্টের অধীনে ভারতে জুয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছরের কারাদণ্ড। তার পরও অবশ্য জুয়াটা এ দেশে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড কার্যক্রম’ হিসেবে বেশ জোরের সঙ্গেই চালু আছে।
ইন্ডিয়া টুডের এই বিশেষ প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যাঁরা ভারতে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবেদনে হয়তো সেসব ব্যবসায়ীর আসল নাম উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু তাঁদের নিয়ে উল্লিখিত ঘটনাগুলো সত্যি। এ প্রতিবেদনে ব্যবসায়ী ছাড়াও করপোরেট পেশায় নিয়োজিত কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যাঁরা প্রায়ই সিঙ্গাপুর, হংকং কিংবা ম্যাকাওয়ের বিভিন্ন ক্যাসিনোতে নিয়ম করে যান। এবং প্রচুর টাকা উড়িয়ে আসেন। জুয়ার টেবিলে এঁদের যেমন আর্থিক ক্ষতির ব্যাপার আছে, ঠিক তেমনি রয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থপ্রাপ্তির ঘটনা।
বিরন মেহরা এমনই এক ব্যক্তিত্বের নাম। যিনি ভারতের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের বড় পদে কর্মরত। তিনি হংকংয়ের বিভিন্ন ক্যাসিনোতে লগ্নি করেছেন প্রায় ৫০ লাখ রুপির মতো। পাঁচ লাখ রুপি তিনি হেরেছেন। লাভ বাকি ৪৫ লাখ। এটা বর্তমানে ভারতীয় পয়সা ওয়ালাদের জুয়া-বাণিজ্যে নিতান্তই সিন্ধুতে বিন্দু বলা যায়।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিরাতে অনেক ভারতীয় হংকং, সিঙ্গাপুর কিংবা ম্যাকাওয়ের উদ্দেশে উড়ে যান, এঁরা সবাই জুয়া খেলতে যান। একটা সময় ছিল যখন কোথাও বেড়াতে গিয়ে অনেকেই সখে জুয়ায় মেতে উঠতেন। কিন্তু সময় পাল্টে গেছে। পরিবর্তিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয়রা এখন কেবল জুয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই বিদেশে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত পূর্ব এশিয়ার এসব জুয়া স্পটগুলোতে ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। গড়ে একেকজন ভারতীয় জুয়াড়ি এসব জায়গায় ১০ হাজার ডলার করে লগ্নি করেন।
ম্যাকাওয়ে ভারতীয় জুয়াড়ি যেখানে ২০০২ সালে ছিল মাত্র পাঁচ হাজার। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় লাখেরও বেশি। সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলতে গিয়ে তো অনেকে পেয়েছেন সিঙ্গাপুর সরকারের কদর আর সমাদর। পাওয়ান বাগরি নামের একজন কলকাতাকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীকে সিঙ্গাপুরে গিয়ে খরচ করার জন্য দেওয়া হয়েছে সিঙ্গাপুর সরকারের বিশেষ সম্মাননা। তিনি হয়েছেন, সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বৃহত্ ‘খরুচে’।
এদিকে জুয়ার প্রতি ভারতীয় নাগরিকদের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় আশার আলো দেখছে দক্ষিণ এশিয়ার ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে খ্যাত শ্রীলঙ্কা। খুব তাড়াতাড়িই সে দেশের সরকার জুয়াকে আইনি স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, শ্রীলঙ্কা সরকারের এ সিদ্ধান্ত শুধু ভারতীয় জুয়াড়িদের আকৃষ্ট করার জন্য। শ্রীলঙ্কা চাচ্ছে, যদি সিঙ্গাপুর হংকংয়ে গিয়ে অনেক বেশি খরচ করে ভারতীয়রা জুয়া খেলতে যেতে পারেন, তাহলে অপেক্ষাকৃত কম খরচে তাঁরা কেন শ্রীলঙ্কা যাবেন না। ভারতীয় জুয়াড়িরা এ মুহূর্তে শ্রীলঙ্কার মন্দা পর্যটন ব্যবসায়ের সঞ্জীবনী সুধা।
আগেই বলা হয়েছে ভারতে সিকিম ও গোয়ায় জুয়া আইনগতভাবে সিদ্ধ। গোয়ায় রয়েছে ২৪টি ক্যাসিনো। এই ক্যাসিনোগুলোতেও ভারতীয়রা সমানভাবে টাকা লগ্নি করে যাচ্ছে। গত দুই বছরে গোয়ার ক্যাসিনোগুলো ভারত সরকারকে রাজস্ব দিয়েছে ২৫০ কোটি রুপি। সিকিমেও ক্যাসিনো ব্যবসা প্রতিনিয়ত ফুলে-ফেঁপে উঠছে। সিকিম এখন উঠে-পড়ে লেগেছে রাজনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত নেপালের পর্যটন ব্যবসায়ে ভাগ বসাতে। খুব তাড়াতাড়িই এখানে একটি বিমানবন্দর তৈরি করছে ভারত সরকার।
গোয়ার ক্যাসিনো ব্যবসার প্রবৃদ্ধি গত তিন বছরে ৫০০ শতাংশ। এটি সেই সিঙ্গাপুর ও ম্যাকাওয়ের চেয়ে কি কোনো অংশে কম!
আয়তনের দিক দিয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এ দেশে তাহলে পরিবর্তিত সংস্কৃতির হাওয়া লেগে গেছে! daily prothom alo news

Thursday, November 3, 2011

জাল পাসপোর্ট তৈরির কারখানার সন্ধান

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া সনটেক এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার জাল পাসপোর্ট তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ডিবির একটি দল আজ ভোর পাঁচটার দিকে দনিয়া সনটেক এলাকার তিতুমীর সড়কে জাল পাসপোর্ট তৈরি চক্রের প্রধান শাহজাহানের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। ওই সময় তারা শাহজাহান (৪৮) ও তাঁর সহযোগী আবদুল মালেককে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসায় লুকিয়ে রাখা পাসপোর্ট তৈরির বিপুল পরিমাণ কাগজ, পাসপোর্ট তৈরিতে ব্যবহূত বিশেষ কিছু যন্ত্র এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি ভিসা তৈরির সিলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করে ডিবি পুলিশ।
ডিবির সহকারী কমিশনার নাসিরউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া শাহজাহান ও মালেক জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ‘তাদের সহযোগীরা জাল পাসপোর্ট রোহিঙ্গাদের কাছে বিক্রি করে। রোহিঙ্গারা একেকটি জাল পাসপোর্ট ৬০ হাজার টাকায় কিনে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাল পাসপোর্ট তৈরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

Friday, October 14, 2011

মেয়েরা কেন মন্দ ছেলেদের প্রেমে পড়ে

ছেলেরা কেন মেয়েদের আর মেয়েরা কেন ছেলেদের প্রেমে পড়ে—এ নিয়ে কথা হয়েছে অনেক। কিন্তু মেয়েরা কেন মন্দ ছেলেদের প্রেমে পড়ে, এবারের গবেষণা সেটা নিয়েই। পারসোনালিটি অ্যান্ড ইন্ডিভিজ্যুয়াল ডিফারেন্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণাটি করেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আদ্রিয়ান ফার্নহাম। তিনি জানিয়েছেন, মন্দ বৈশিষ্ট্যের ছেলেরাও অনেক মেয়ের কাছে আকর্ষণীয়।
নতুন গবেষণা অনুযায়ী, মন্দ চরিত্রের পুরুষেরা রোমাঞ্চবিলাসী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়ায় অনেক নারী তাদের প্রতি বেশি আকর্ষণ বোধ করে থাকে। এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে কারও আলোকিত দিকের চেয়ে খারাপ দিকও অনেক সময় অন্যের মনে সহানুভূতি সৃষ্টি করে। এ ধরনের পুরুষ কোনো পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ কিংবা হিসাব নিরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজে ভালো হতে পারে—এটি গবেষণায় দেখিয়েছেন আদ্রিয়ান ফার্নহাম। তারা অনেক ক্ষেত্রেই সৃষ্টিশীল এবং ভালো বক্তা। আর তাই তাদের প্রতি স্বভাবতই নারীরা একটু বেশি ঝোঁকে।
গবেষণায় আরও দেখানো হয়, খামখেয়ালিপূর্ণ, রোমাঞ্চবিলাসী, খুঁতখুঁতে এবং আগ্রাসী মনোভাবের ছেলেদের অনেক মেয়ে পছন্দ করে থাকে। পারসোনালিটি অ্যান্ড ইন্ডিভিজ্যুয়াল ডিফারেন্সেস সাময়িকীর বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের ডেইলি স্টার পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

Wednesday, October 12, 2011

 বিচ্ছেদে পুরুষের কষ্ট বেশি!

বিবাহবিচ্ছেদের পর নারীর চেয়ে বেশি কষ্ট পান পুরুষেরা। মানিয়ে নেওয়া বা মানিয়ে চলার অভ্যাস পুরুষদের মধ্যে বরাবরই কম। হয়তো সে কারণেই পুরোনো অভ্যাস ছেড়ে নতুন জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে তাঁদের জন্য। কিন্তু ঠিক উল্টোটা ঘটে নারীদের বেলায়। বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া নারীকে সবাই করুণার পাত্রী মনে করলেও তাঁরাই দ্রুত নতুন অবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন। এটিকে তাঁরা দেখেন জীবনের নতুন লড়াই হিসেবে। আর সে লড়াইতে প্রাণপণে জেতার চেষ্টা করেন তাঁরা।
অন্যদিকে বিচ্ছেদের পর মনের দিক দিয়ে পুরুষেরা নারীদের চেয়ে বেশি ভেঙে পড়েন। এমনকি তাঁদের খাওয়া-দাওয়া, ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে। সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক জরিপে এমনটাই দেখা গেছে। ওই জরিপে দেখা গেছে, বিবাহবিচ্ছেদের পর ৪৮ শতাংশ পুরুষ খুবই নিঃসঙ্গ বোধ করে। অন্যদিকে নারীদের মধ্যে এই হার কম। ৩৫ শতাংশ নারী নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে করে।
অবশ্য পুরুষের এই ভেঙে পড়াটা পুরোপুরি আবেগের কারণে নয়। বিবাহবিচ্ছেদের পর অর্থনৈতিক ধকলটা পুরুষকেই বেশি সামলাতে হয়। অন্যদিকে অর্থনৈতিক দিক থেকে নারীর জন্য ব্যাপারটা সে তুলনায় সহজ হয়ে দাঁড়ায়। বিচ্ছেদের পর নারী স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণও আদায় করে নিতে পারেন। এ ছাড়া বিবাহবিচ্ছেদের ব্যাপারে বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকেও তাঁরা অনেক বেশি সহানুভূতি পেয়ে থাকেন।
লন্ডনের বিবাহবিচ্ছেদ-বিষয়ক আইনজীবী এডাম উইটকোভার ও ব্রস বেনেট অবশ্য এই জরিপের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তিনি বলেছেন, বিবাহবিচ্ছেদের পর অনেক নারীও পুরুষদের মতোই হতাশায় ভোগেন। কারণ তাঁদের অনেক বেশি ঝামেলার মুখে পড়তে হয়। প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব, পরিবার সবাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আঙুল তোলে নারীর দিকেই। তবে হিন্দুস্তান টাইমসের ওই জরিপ বলছে, এসব ঝামেলা সামলেও বিচ্ছেদের পর পুরুষদের চেয়ে বেশি শক্ত থাকেন নারীরাই।

Tuesday, October 11, 2011

 আকৃষ্ট হতে সময় লাগে ১১৯ সেকেন্ড!

কাউকে প্রথম দেখার পর আকৃষ্ট হতে সময় লাগে ১১৯ সেকেন্ড বা প্রায় দুই মিনিট। যুক্তরাজ্যের ‘দ্য ডেইলি স্টার’ এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘ডেটিং, কর্মক্ষেত্রে সাক্ষাত্কার, ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে বৈঠক এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা হওয়ার ১১৯ সেকেন্ডের মধ্যেই আকৃষ্ট হওয়ার ব্যাপারটি ঘটে থাকে।’
যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ জনের মধ্যে আটজন (৮৪ শতাংশ) প্রথম দেখার ১১৯ সেকেন্ডেই আকৃষ্ট হয়। আবার এর উল্টো ফলও রয়েছে। প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন (নয় শতাংশ) এ ক্ষেত্রে তাদের মন পরিবর্তন করে অর্থাত্ তারা এ সময়ের মধ্যে আকৃষ্ট হয় না।
সুন্দর হাসি এবং পরিপাটি চুল যাদের রয়েছে, অন্যকে মুগ্ধ করার একটা ভালো সুযোগ তাদের রয়েছে। কারও নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ তার প্রতি অন্যের আকর্ষণ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।
সূত্র এএনআই।

গজলসম্রাট জগজিৎ সিং আর নেই


ডেসটিনি রিপোর্ট

'বেশি কিছু আশা করা ভুল,' 'কতো বেদনা দিলে', 'বেদনা মধুর হয়ে যায়, নদীতে তুফান এলে কূল ভেঙ্গে যায়', 'চোখে চাখ রেখে আমি সুরা পান করি', 'বুঝিনিতো আমি, পৃথিবীতে ভালোবাসা সবচেয়ে দামি', 'তোমার চুল বাঁধা দেখতে দেখতে'_ জনপ্রিয় এই গানগুলোর স্রষ্টা উপমহাদেশের

প্রখ্যাত গজলশিল্পী জগজিৎ সিং। গতকাল সোমবার ভারতের মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে কিংবদন্তি এ গজলশিল্পী মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
গত মাসের শেষদিকে অপর প্রখ্যাত গজলশিল্পী গোলাম আলীর সঙ্গে যৌথভাবে মুম্বাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করার কথা ছিল তার। কিন্তু তার আগেই তিনি আকস্মিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ২৩ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে এই শিল্পীর মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর গত সপ্তায় তাকে একই হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। 'গজলসম্রাট' দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চরক্তচাপে ভুগছিলেন।
জগজিৎ সিংয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রখ্যাত গজলশিল্পী পঙ্কজ উদাস বলেন, জগজিৎ সিংয়ের মৃত্যু সংগীত জগতের জন্য এক বিশাল ক্ষতি।
২০০৩ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ খেতাব পাওয়া এই শিল্পী গত চার দশক ধরে একাধারে হিন্দি, পাঞ্জাবি, উর্দু, বাংলা, গুজরাটি, সিন্ধি ও নেপালি ভাষায় গান শুনিয়ে আসছেন উপমহাদেশের শ্রোতাদের। তার স্ত্রী চিত্রা সিংও একজন বিখ্যাত শিল্পী। স্ত্রী চিত্রাকে সঙ্গে নিয়ে জগজিৎ সিং ভারতে গজলের পুনর্জাগরণ সৃষ্টি করেছেন বলে মনে করা হয়। এই শিল্পীদম্পতির আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় ভারতের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার কাজে।
বাংলাদেশে এসে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গান গেয়ে এ দেশের শ্রোতাদেরও মুগ্ধ করেছেন গজলসম্রাট। তার কণ্ঠে গাওয়া সেই জনপ্রিয় রোমান্টিক ধাঁচের বাংলা গানগুলো শ্রোতাদের মনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
জগজিৎ জন্মেছিলেন রাজস্থানে ১৯৪১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। বাবা অমর সিং এবং মা বচন কাউরের ১১ সন্তানের ভেতরে জগজিৎ ছিলেন তৃতীয়। ছোট একটি সরকারি বাড়িতেই শুরু হয়েছিল ভবিষ্যতের এই গজলসম্রাটের শৈশব। যেখানে না ছিল পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা, না বিদ্যুৎ। তবু এই মফস্বলের এক কোনেই বাবার উৎসাহে গানের পথে হাঁটার শুরুটা হয়েছিল জগজিৎ সিংয়ের। বাড়িতে সংগীতের পরিবেশ ছিল, যখন বাড়ির প্রাথমিক তালিম প্রায় শেষ; সে সময় জামাল খান নামের একজন তাকে বাড়িতে এসে গান শেখাতে শুরু করেন।
শিক্ষাজীবন থেকেই তার যাত্রা ক্রমশ গজলের সপ্তমাকাশে। প্রথমে ছোটখাটো গজলের অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। সংগীত পরিচালকদের কাছে ক্রমশ পরিচিত মুখ হয়ে উঠছিলেন তিনি। কিন্তু গজলসম্রাটের সিংহাসনটি তখনও অধরা। গায়ক নেওয়ার বেলায় সেই পরিচালকরা তখন খুঁজতেন তাদের লোকজনদের। গজলই তাকে খুঁজে দিয়েছিল তার ভালোবাসার মানসীকে, এর মাঝেই পরিচয় ঘটেছিল বাঙালি মেয়ে চিত্রা সিংয়ের সঙ্গে; তখন চিত্রা সিং হননি, জিঙ্গেল গাইতেন। বিবাহিত চিত্রার স্বামী চালাতেন একটা স্টুডিও। তার সঙ্গে জিঙ্গেলে কণ্ঠ দিতে শুরু করেন জগজিৎ। এভাবেই আবেগ ছড়ায় কণ্ঠ থেকে হৃদয়ে। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার সংযোগ কিন্তু সেই গজলই। এই সুরই কিন্তু জগজিৎকে রাজস্থান থেকে টেনে এনে ফেলেছে বাঙালি চিত্রার শ্যামলিম ভালোবাসায়।
চিত্রার স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর ১৯৬৯-এর ডিসেম্বরে বিয়ে করেন জগজিৎ সিং আর চিত্রা। চিত্রার আগের পক্ষের মেয়ে মনিকাকে নিয়ে ওয়ার্ডেন রোডের ছোট্ট এক রুমের একটি বাড়িতে সংসার শুরু হয় গজল দুনিয়ার জনপ্রিয়তম জুটি জগজিৎ-চিত্রা সিংয়ের।
১৯৭১ সালে জগজিৎ-চিত্রা দম্পতির ঘরে আসে একটি পুত্র সন্তান, যার নাম রেখেছিলেন বিবেক। ১৯৭৬ সাল। এ বছরই জগজিৎ আর চিত্রা সিংয়ের প্রথম লং প্লেইং রেকর্ড বা এলপি অ্যালবাম 'আনফরগটেনেবলস' প্রকাশিত হয়। এর পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি জগজিৎ সিংকে। তুমুল ব্যবসা, জনপ্রিয়তা, ছবিতে গান গাওয়ার অফার সব যেন রাজস্থানের উষর জমিতে প্লাবনের ঢলের মতোই নেমে আসে।
উপমহাদেশের সংগীতাকাশে মেহেদি হাসান, নূরজাহান, বেগম আখতার এবং তালাত মাহমুদ; যিনি ছিলেন জগজিৎয়ের আশৈশব স্বপ্নের তারকা, সেই একই আকাশে নক্ষত্র হয়ে জ্বলে ওঠেন তিনি। প্লেব্যাক করেন প্রেম গীত (১৯৮১), সাথ সাথ, মহেশ ভাটের ডেব্যু ফিল্ম আর্থ (১৯৮২), টিভি সিরিজ মির্জা গালিব (১৯৮৮) এবং কাহকাশান (১৯৯১)।
৫ যুগের এই দীর্ঘ সময়ে জগজিৎয়ের এ পর্যন্ত ৮০টি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৩ সালে ভারত সরকারের সর্বোচ্চ খেতাব পদ্মভূষণে সম্মানিত এই শিল্পী গত চার দশক ধরে একাধারে হিন্দি, পাঞ্জাবি, উর্দু, বাংলা, গুজরাটি, সিন্ধি ও নেপালি ভাষায় গান শুনিয়েছেন উপমহাদেশের শ্রোতাদের।
১৯৯০-এ জগজিৎয়ের একমাত্র পুত্র বিবেক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। তখন বিবেকের বয়স মাত্র ১৯ বছর। এরপরই স্থায়ী এক অন্ধকারের দেয়াল উঠে যায় এ জুটির জীবনে। যদিও এরপরও থেমে থাকেননি জগজিৎ। কিন্তু তার স্ত্রী সুকণ্ঠী চিত্রা পুত্রশোকে গান গাওয়াই ছেড়ে দেন।
এদিকে আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, এ গজলসম্রাটের মৃত্যুতে সারা ভারতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল ও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। বলিউডের বিখ্যাত গীতিকার জাভেদ আখতার তার ভাষায় বলেন, এমন একজন শিল্পীকে আমরা হারালাম, যার শূন্যস্থান পূরণ করা খুবই অসম্ভব।' সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর বলেন, গজলসম্রাটকে শুধু হারালাম না, তার সঙ্গে হারালাম গজলের ভা-ারকে। প-িত অজয় চক্রবর্তী বলেন, জগজিৎ সিংয়ের মৃত্যুতে গজলের জগৎটাই যেন আজ কিছুটা খালি হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোক প্রকাশ করে বলেন, জগজিৎ সিং ছিলেন আমার প্রিয় গজলশিল্পী, কলকাতায় অনেকবার ওনার গজলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম।

Sunday, October 9, 2011

 আইসক্রিম থেকে সাবধান!

অবসর সময়ে একটু আয়েশ করে আইসক্রিম খাচ্ছেন। মাথা ও শরীরটাকে একটু চাঙা করতে চাইছেন। ভালো কথা। কিন্তু খুব খেয়াল! খাবেন—তবে লুকিয়ে লুকিয়ে। কারণ, তৃষ্ণা মেটানোর জন্য যে আইসক্রিম আপনি খাচ্ছেন, তা যদি কেউ দেখে ফেলে, তাহলে উত্তেজিত হয়ে আপনার নামে যৌন হয়রানির মামলা ঠুকে দিতে পারে অনায়াসেই। প্রকাশ্যে একটি আইসক্রিম খেয়েই কিন্তু ফেঁসে গেলেন আপনি। তবে এই আইন নারীদের জন্যই বেশি প্রযোজ্য।
গতকাল শনিবার ডেইলি মেইল অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
খবরে বলা হয়, ফিনল্যান্ডের একদল আইনজীবী অনেক ভেবেচিন্তে যৌন হয়রানির আইনে নতুন বিষয়টি সংযুক্ত করার সুপারিশ করেছেন। তাঁরা বলেন, যেসব নারী জনসমক্ষে অন্যকে উসকানি দেওয়ার ভঙ্গিতে আইসক্রিম খাবেন, শুধু তাঁরাই যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত হবেন। আর বিষয়টি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে তুলতে ওই আইনজীবী দল ইন্টারনেটে একটি ভিডিওচিত্র ছেড়েছেন। তাতে দেখানো হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে খুবই অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণভাবে আইসক্রিম খাচ্ছেন এক কর্মজীবী তরুণী। আর এ তরুণীর পুরুষ সহকর্মীরা খুবই বিব্রত, অথচ উত্সুক হয়ে তাঁর আইসক্রিম চুষে খাওয়া দেখছেন।
ওই আইনজীবী দল বলে, এটা কি তাহলে যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে না? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে দ্য ফিনিশ লইয়ারস অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে অনেকে অনেকভাবে নারী বা পুরুষকে যৌন হয়রানি করে থাকে। আর এ ভিডিওচিত্র সে বিষয়ে মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করে তুলবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌন হয়রানিবিষয়ক আইনের এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ভিডিওচিত্রটিতে দেখা যায়, ওই নারীর আইসক্রিম খাওয়ার ধরনটি যৌন উত্তেজনাপূর্ণ। আর এ কারণে যে কেউ চোখের পলক না ফেলে ওই নারীর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে। ইউরোপের আইনে বলা আছে, যদি কেউ অন্য কারও সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে, তাহলে সেটা অপরাধ। সেই হিসেবে ভিডিওচিত্রটিতে ওই নারীর আইসক্রিম খাওয়ার উত্তেজক দৃশ্যটি অবশ্যই যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে।