kazi ashraful islam
Saturday, January 28, 2012
মহাজোট ফুটন্ত কড়াই : আর বিএনপি-জামায়াত জলন্ত চুলা
Sunday, January 22, 2012
সময় অপচয় আট হাজার মিনিট
গত তিন বছরে মাত্র তিন দিন নির্ধারিত সময়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু করা গেছে। দিনের কার্যক্রমে একটি মিনিটও অপচয় হয়নি_ এমন কার্যদিবস আছে মাত্র একটি। এর মধ্যে এমন একটি দিনও আছে যেদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ কার্যক্রমে ঢুকতে পেরেছেন স্পিকার। এ ছাড়া তিন বছরে সংসদের ২৫৪ কার্যদিবসের চিত্র
অভিন্ন। কোনো কারণে সংসদ কার্যক্রম কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি করা হলেও সেটি পেঁৗছে গেছে দীর্ঘক্ষণে। কোনো কোনো দিন সময় অপচয়ের হিসাব দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত গেছে।
নবম সংসদের প্রথম তিন বছরের ১১টি অধিবেশনের মধ্যে যে ১০টি অধিবেশনের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সার প্রকাশিত হয়েছে সেখান থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। তাতে ১০ অধিবেশনের ২৪১ দিনের হিসাবই আমলে নেওয়া সম্ভব। একাদশ অধিবেশনের সংক্ষিপ্ত সার এখনও অপ্রকাশিত।
প্রাপ্ত হিসাবে দেখা গেছে, নবম সংসদের প্রথম ২৪১ দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে সময় অপচয় হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ মিনিট। গড়ে প্রতিটি কার্যদিবসে অপচয় সাড়ে ৩২ মিনিট। এর মধ্যে কোরাম না হওয়ায় সব দিনের শুরুতেই স্পিকারের পক্ষে নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন কক্ষে আসা সম্ভব হয়নি। আবার মাগরিব বা আসরের নামাজের জন্য ২০ বা ৩০ মিনিটের বিরতি (মুলতবি) দিলেও সে বিরতি ৪০ বা ৫০ মিনিটও পেরিয়েছে। নামাজের বিরতির পর এক ঘণ্টার মধ্যে কোরাম পূরণ হয়নি_ এমন দিনও পাওয়া গেছে তিন বছরের সংসদে। নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে না পারা, নামাজের বিরতিসহ অন্যান্য বিরতি মিলিয়ে গড়ে একেকটি বিরতিতে সংসদের সময় অপচয় দাঁড়িয়েছে গড়ে ১৭ দশমিক ২০ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় নষ্টের কারণে অর্থ অপচয়ের হিসাবও অনেক বড় হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে অধিবেশন চলাকালে জাতীয় সংসদের সরাসরি ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক খরচের পরিমাণ মিনিটে ৩০ হাজার টাকা। তাতে তিন বছরে ৮ হাজার মিনিট কোনো কাজে না লাগায় অপচয়ের হিসাব দাঁড়ায় আড়াই লাখ কোটি টাকায়। এদিকে সময় অপচয়ের হিসাবকে এমনভাবে টাকায় পরিমাপ করার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন অনেকে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আবদুস শহীদ বলেন, এভাবে ব্যাখ্যা করলে অন্য অনেক ক্ষেত্রে আরও লাখ লাখ কোটি টাকা অপচয়ের হিসাব আনা যাবে। সংসদ যে নির্ধারিত সময় মেনে শুরু হতে পারেনি_ এ বিষয়টি অবশ্য অস্বীকার করেননি তিনি।
নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৩৯ কার্যদিবসেই ১ হাজার ৫৪৬ মিনিট অপচয়ের হিসাব মিলেছে। সবচেয়ে বেশি অপচয় হয়েছে চতুর্থ অধিবেশনে। সেটি ছিল এই সংসদের দ্বিতীয় বছরের প্রথম অধিবেশন। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলা ৩৯ কার্যদিবসের অধিবেশনে ১ হাজার ৬২২ মিনিট অপচয় হয়। পঞ্চম অধিবেশনে সময় অপচয় হয়েছে ১ হাজার ১৪৪ মিনিট। এ তিনটি অধিবেশনের মধ্যে দুটিই বছরের প্রথম অধিবেশন। অন্যটি বাজেট অধিবেশন। সাধারণত এ অধিবেশনগুলো দীর্ঘ হয়। তাতে সাংসদদের উপস্থিতি বা সংসদ কার্যে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও অনেক ক্ষেত্রে একঘেয়ে এবং নিয়ম রক্ষায় পরিণত হয়।
এর বাইরে নানা কারণে দ্বিতীয় অধিবেশনে ৮৯৩, নবম অধিবেশনে ৭৮৭, অষ্টম অধিবেশনে ৭৫২, তৃতীয় অধিবেশনে ৪৫৮, ষষ্ঠ অধিবেশনে ৪১৯, সপ্তম অধিবেশনে ২১৫ এবং দশম অধিবেশনে ৩১ মিনিট অপচয় হয়।
দেখা গেছে, অধিকাংশ সময় মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন কক্ষে ফিরতে গড়িমসি করেন সাংসদরা। মাগরিবের নির্ধারিত বিরতি বাদ দিয়ে এখানে অপচয় ৩ হাজার ২৭৬ মিনিট। আর দিনের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব বা দু'বেলার অধিবেশনের ক্ষেত্রে বিকেলের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব করায় অপচয় ৩ হাজার ১৩২ মিনিট। অন্যদিকে আসরের নামাজের ২০ মিনিটের নির্ধারিত বিরতির বাইরেও সাংসদদের বিলম্বে অপচয় আরও ১ হাজার ৪৯৯ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সারে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ৭ জুন সংসদের অধিবেশন বসার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৪টা। আগের দিন সময় নির্ধারণ হলেও ৭ জুন দুপুরের পর স্পিকার নিজ ক্ষমতাবলে সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পুনর্নির্ধারণ করেন। পুনর্নির্ধারিত সময়েও সাংসদরা আসতে পারেননি। অবশ্য এক্ষেত্রে সময় অপচয়ের হিসাব ধরা হয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকেই। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় ৪৫ মিনিট বিলম্বে। প্রথম বছরের ২৮ জুন এক দিনে ৭০ মিনিট নষ্ট হয়। একই বছরের ২ ও ৫ মার্চ অপচয় হয় ৬৬ মিনিট করে।
গত বছর ৩ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর সামনের সারির ২৯ আসনের কোনো সাংসদই উপস্থিত ছিলেন না। ২০০৯ সালের ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় সংসদ বসার সময় নির্ধারিত হলেও তা ৫টা ২৯ মিনিটে শুরু হয়। ২০১১ সালের ১৪ মার্চ কোনো সময় অপচয় ছাড়াই দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সংসদের কার্যক্রম চলে।
তারও আগে নবম সংসদের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় সময় নষ্টের পর্ব। সংসদের নথি অনুসারে সেদিন ৬৭ মিনিট নষ্ট হয়। বিকেল ৩টার অধিবেশন বসে ১৬ মিনিট বিলম্বে। অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর নতুন স্পিকারের শপথের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ মিনিট। দেখা গেল ৭১ মিনিট পরও কোরাম পূরণ হচ্ছে না। মাগরিবের নামাজের ২০ মিনিটের বিরতিও সেদিন প্রলম্বিত হয়েছিল। মাগরিবের নামাজের দীর্ঘায়িত বিরতি চলে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন নির্ধারিত ২০ মিনিট পরও ৪০ মিনিট অনির্ধারিত বিরতি চালিয়ে নেন সাংসদরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদের বাজেট যখন ৪৫ কোটি টাকা, তখনই মিনিটে ১৯ হাজার টাকা খরচের হিসাব ছিল। এখন এ বাজেট কয়েকগুণ বাড়ায় প্রতি মিনিটের খরচ ৩০ হাজার টাকা। তা ছাড়া মিনিটপ্রতি খরচের হিসাবে কেবল সংসদের খরচের হিসাব হয় না। প্রত্যেক সাংসদের বেতন-ভাতা, মন্ত্রীদের স্টাফ-গাড়ি-অফিসসহ সব খরচ যুক্ত হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গণপূর্ত, টেলিফোন, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেলসহ সব খরচ যোগ করে প্রতি মিনিটের হিসাব নির্ধারিত হয়। সে কারণে সময় অপচয়ের হিসাব বড় হলে টাকার অঙ্ক আরও বড় মনে হয়। এর আগে এ সংসদের প্রথম বছরের ওপর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এমন হিসাব প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল সংসদ ও সরকার।
সংসদের বেশ ক'জন সিনিয়র স্টাফ বলেন, রুলস অব প্রসিডিউরে এ বিষয়ে কিছু পরিবর্তন এনে সময় অপচয় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, সময় অপচয় অবশ্যই গর্হিত কাজ। তিনি বলেন, যেটুকু সময় ব্যবহার হচ্ছে বলে দেখানো হয় তাও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।
সময় অপচয় আট হাজার মিনিট
গত তিন বছরে মাত্র তিন দিন নির্ধারিত সময়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু করা গেছে। দিনের কার্যক্রমে একটি মিনিটও অপচয় হয়নি_ এমন কার্যদিবস আছে মাত্র একটি। এর মধ্যে এমন একটি দিনও আছে যেদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ কার্যক্রমে ঢুকতে পেরেছেন স্পিকার। এ ছাড়া তিন বছরে সংসদের ২৫৪ কার্যদিবসের চিত্র
অভিন্ন। কোনো কারণে সংসদ কার্যক্রম কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি করা হলেও সেটি পেঁৗছে গেছে দীর্ঘক্ষণে। কোনো কোনো দিন সময় অপচয়ের হিসাব দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত গেছে।
নবম সংসদের প্রথম তিন বছরের ১১টি অধিবেশনের মধ্যে যে ১০টি অধিবেশনের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সার প্রকাশিত হয়েছে সেখান থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। তাতে ১০ অধিবেশনের ২৪১ দিনের হিসাবই আমলে নেওয়া সম্ভব। একাদশ অধিবেশনের সংক্ষিপ্ত সার এখনও অপ্রকাশিত।
প্রাপ্ত হিসাবে দেখা গেছে, নবম সংসদের প্রথম ২৪১ দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে সময় অপচয় হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ মিনিট। গড়ে প্রতিটি কার্যদিবসে অপচয় সাড়ে ৩২ মিনিট। এর মধ্যে কোরাম না হওয়ায় সব দিনের শুরুতেই স্পিকারের পক্ষে নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন কক্ষে আসা সম্ভব হয়নি। আবার মাগরিব বা আসরের নামাজের জন্য ২০ বা ৩০ মিনিটের বিরতি (মুলতবি) দিলেও সে বিরতি ৪০ বা ৫০ মিনিটও পেরিয়েছে। নামাজের বিরতির পর এক ঘণ্টার মধ্যে কোরাম পূরণ হয়নি_ এমন দিনও পাওয়া গেছে তিন বছরের সংসদে। নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে না পারা, নামাজের বিরতিসহ অন্যান্য বিরতি মিলিয়ে গড়ে একেকটি বিরতিতে সংসদের সময় অপচয় দাঁড়িয়েছে গড়ে ১৭ দশমিক ২০ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় নষ্টের কারণে অর্থ অপচয়ের হিসাবও অনেক বড় হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে অধিবেশন চলাকালে জাতীয় সংসদের সরাসরি ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক খরচের পরিমাণ মিনিটে ৩০ হাজার টাকা। তাতে তিন বছরে ৮ হাজার মিনিট কোনো কাজে না লাগায় অপচয়ের হিসাব দাঁড়ায় আড়াই লাখ কোটি টাকায়। এদিকে সময় অপচয়ের হিসাবকে এমনভাবে টাকায় পরিমাপ করার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন অনেকে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আবদুস শহীদ বলেন, এভাবে ব্যাখ্যা করলে অন্য অনেক ক্ষেত্রে আরও লাখ লাখ কোটি টাকা অপচয়ের হিসাব আনা যাবে। সংসদ যে নির্ধারিত সময় মেনে শুরু হতে পারেনি_ এ বিষয়টি অবশ্য অস্বীকার করেননি তিনি।
নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৩৯ কার্যদিবসেই ১ হাজার ৫৪৬ মিনিট অপচয়ের হিসাব মিলেছে। সবচেয়ে বেশি অপচয় হয়েছে চতুর্থ অধিবেশনে। সেটি ছিল এই সংসদের দ্বিতীয় বছরের প্রথম অধিবেশন। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলা ৩৯ কার্যদিবসের অধিবেশনে ১ হাজার ৬২২ মিনিট অপচয় হয়। পঞ্চম অধিবেশনে সময় অপচয় হয়েছে ১ হাজার ১৪৪ মিনিট। এ তিনটি অধিবেশনের মধ্যে দুটিই বছরের প্রথম অধিবেশন। অন্যটি বাজেট অধিবেশন। সাধারণত এ অধিবেশনগুলো দীর্ঘ হয়। তাতে সাংসদদের উপস্থিতি বা সংসদ কার্যে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও অনেক ক্ষেত্রে একঘেয়ে এবং নিয়ম রক্ষায় পরিণত হয়।
এর বাইরে নানা কারণে দ্বিতীয় অধিবেশনে ৮৯৩, নবম অধিবেশনে ৭৮৭, অষ্টম অধিবেশনে ৭৫২, তৃতীয় অধিবেশনে ৪৫৮, ষষ্ঠ অধিবেশনে ৪১৯, সপ্তম অধিবেশনে ২১৫ এবং দশম অধিবেশনে ৩১ মিনিট অপচয় হয়।
দেখা গেছে, অধিকাংশ সময় মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন কক্ষে ফিরতে গড়িমসি করেন সাংসদরা। মাগরিবের নির্ধারিত বিরতি বাদ দিয়ে এখানে অপচয় ৩ হাজার ২৭৬ মিনিট। আর দিনের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব বা দু'বেলার অধিবেশনের ক্ষেত্রে বিকেলের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব করায় অপচয় ৩ হাজার ১৩২ মিনিট। অন্যদিকে আসরের নামাজের ২০ মিনিটের নির্ধারিত বিরতির বাইরেও সাংসদদের বিলম্বে অপচয় আরও ১ হাজার ৪৯৯ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সারে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ৭ জুন সংসদের অধিবেশন বসার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৪টা। আগের দিন সময় নির্ধারণ হলেও ৭ জুন দুপুরের পর স্পিকার নিজ ক্ষমতাবলে সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পুনর্নির্ধারণ করেন। পুনর্নির্ধারিত সময়েও সাংসদরা আসতে পারেননি। অবশ্য এক্ষেত্রে সময় অপচয়ের হিসাব ধরা হয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকেই। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় ৪৫ মিনিট বিলম্বে। প্রথম বছরের ২৮ জুন এক দিনে ৭০ মিনিট নষ্ট হয়। একই বছরের ২ ও ৫ মার্চ অপচয় হয় ৬৬ মিনিট করে।
গত বছর ৩ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর সামনের সারির ২৯ আসনের কোনো সাংসদই উপস্থিত ছিলেন না। ২০০৯ সালের ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় সংসদ বসার সময় নির্ধারিত হলেও তা ৫টা ২৯ মিনিটে শুরু হয়। ২০১১ সালের ১৪ মার্চ কোনো সময় অপচয় ছাড়াই দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সংসদের কার্যক্রম চলে।
তারও আগে নবম সংসদের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় সময় নষ্টের পর্ব। সংসদের নথি অনুসারে সেদিন ৬৭ মিনিট নষ্ট হয়। বিকেল ৩টার অধিবেশন বসে ১৬ মিনিট বিলম্বে। অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর নতুন স্পিকারের শপথের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ মিনিট। দেখা গেল ৭১ মিনিট পরও কোরাম পূরণ হচ্ছে না। মাগরিবের নামাজের ২০ মিনিটের বিরতিও সেদিন প্রলম্বিত হয়েছিল। মাগরিবের নামাজের দীর্ঘায়িত বিরতি চলে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন নির্ধারিত ২০ মিনিট পরও ৪০ মিনিট অনির্ধারিত বিরতি চালিয়ে নেন সাংসদরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদের বাজেট যখন ৪৫ কোটি টাকা, তখনই মিনিটে ১৯ হাজার টাকা খরচের হিসাব ছিল। এখন এ বাজেট কয়েকগুণ বাড়ায় প্রতি মিনিটের খরচ ৩০ হাজার টাকা। তা ছাড়া মিনিটপ্রতি খরচের হিসাবে কেবল সংসদের খরচের হিসাব হয় না। প্রত্যেক সাংসদের বেতন-ভাতা, মন্ত্রীদের স্টাফ-গাড়ি-অফিসসহ সব খরচ যুক্ত হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গণপূর্ত, টেলিফোন, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেলসহ সব খরচ যোগ করে প্রতি মিনিটের হিসাব নির্ধারিত হয়। সে কারণে সময় অপচয়ের হিসাব বড় হলে টাকার অঙ্ক আরও বড় মনে হয়। এর আগে এ সংসদের প্রথম বছরের ওপর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এমন হিসাব প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল সংসদ ও সরকার।
সংসদের বেশ ক'জন সিনিয়র স্টাফ বলেন, রুলস অব প্রসিডিউরে এ বিষয়ে কিছু পরিবর্তন এনে সময় অপচয় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, সময় অপচয় অবশ্যই গর্হিত কাজ। তিনি বলেন, যেটুকু সময় ব্যবহার হচ্ছে বলে দেখানো হয় তাও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।
সময় অপচয় আট হাজার মিনিট
গত তিন বছরে মাত্র তিন দিন নির্ধারিত সময়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু করা গেছে। দিনের কার্যক্রমে একটি মিনিটও অপচয় হয়নি_ এমন কার্যদিবস আছে মাত্র একটি। এর মধ্যে এমন একটি দিনও আছে যেদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ কার্যক্রমে ঢুকতে পেরেছেন স্পিকার। এ ছাড়া তিন বছরে সংসদের ২৫৪ কার্যদিবসের চিত্র
অভিন্ন। কোনো কারণে সংসদ কার্যক্রম কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি করা হলেও সেটি পেঁৗছে গেছে দীর্ঘক্ষণে। কোনো কোনো দিন সময় অপচয়ের হিসাব দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত গেছে।
নবম সংসদের প্রথম তিন বছরের ১১টি অধিবেশনের মধ্যে যে ১০টি অধিবেশনের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সার প্রকাশিত হয়েছে সেখান থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। তাতে ১০ অধিবেশনের ২৪১ দিনের হিসাবই আমলে নেওয়া সম্ভব। একাদশ অধিবেশনের সংক্ষিপ্ত সার এখনও অপ্রকাশিত।
প্রাপ্ত হিসাবে দেখা গেছে, নবম সংসদের প্রথম ২৪১ দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে সময় অপচয় হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ মিনিট। গড়ে প্রতিটি কার্যদিবসে অপচয় সাড়ে ৩২ মিনিট। এর মধ্যে কোরাম না হওয়ায় সব দিনের শুরুতেই স্পিকারের পক্ষে নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন কক্ষে আসা সম্ভব হয়নি। আবার মাগরিব বা আসরের নামাজের জন্য ২০ বা ৩০ মিনিটের বিরতি (মুলতবি) দিলেও সে বিরতি ৪০ বা ৫০ মিনিটও পেরিয়েছে। নামাজের বিরতির পর এক ঘণ্টার মধ্যে কোরাম পূরণ হয়নি_ এমন দিনও পাওয়া গেছে তিন বছরের সংসদে। নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে না পারা, নামাজের বিরতিসহ অন্যান্য বিরতি মিলিয়ে গড়ে একেকটি বিরতিতে সংসদের সময় অপচয় দাঁড়িয়েছে গড়ে ১৭ দশমিক ২০ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় নষ্টের কারণে অর্থ অপচয়ের হিসাবও অনেক বড় হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে অধিবেশন চলাকালে জাতীয় সংসদের সরাসরি ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক খরচের পরিমাণ মিনিটে ৩০ হাজার টাকা। তাতে তিন বছরে ৮ হাজার মিনিট কোনো কাজে না লাগায় অপচয়ের হিসাব দাঁড়ায় আড়াই লাখ কোটি টাকায়। এদিকে সময় অপচয়ের হিসাবকে এমনভাবে টাকায় পরিমাপ করার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন অনেকে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আবদুস শহীদ বলেন, এভাবে ব্যাখ্যা করলে অন্য অনেক ক্ষেত্রে আরও লাখ লাখ কোটি টাকা অপচয়ের হিসাব আনা যাবে। সংসদ যে নির্ধারিত সময় মেনে শুরু হতে পারেনি_ এ বিষয়টি অবশ্য অস্বীকার করেননি তিনি।
নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৩৯ কার্যদিবসেই ১ হাজার ৫৪৬ মিনিট অপচয়ের হিসাব মিলেছে। সবচেয়ে বেশি অপচয় হয়েছে চতুর্থ অধিবেশনে। সেটি ছিল এই সংসদের দ্বিতীয় বছরের প্রথম অধিবেশন। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলা ৩৯ কার্যদিবসের অধিবেশনে ১ হাজার ৬২২ মিনিট অপচয় হয়। পঞ্চম অধিবেশনে সময় অপচয় হয়েছে ১ হাজার ১৪৪ মিনিট। এ তিনটি অধিবেশনের মধ্যে দুটিই বছরের প্রথম অধিবেশন। অন্যটি বাজেট অধিবেশন। সাধারণত এ অধিবেশনগুলো দীর্ঘ হয়। তাতে সাংসদদের উপস্থিতি বা সংসদ কার্যে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও অনেক ক্ষেত্রে একঘেয়ে এবং নিয়ম রক্ষায় পরিণত হয়।
এর বাইরে নানা কারণে দ্বিতীয় অধিবেশনে ৮৯৩, নবম অধিবেশনে ৭৮৭, অষ্টম অধিবেশনে ৭৫২, তৃতীয় অধিবেশনে ৪৫৮, ষষ্ঠ অধিবেশনে ৪১৯, সপ্তম অধিবেশনে ২১৫ এবং দশম অধিবেশনে ৩১ মিনিট অপচয় হয়।
দেখা গেছে, অধিকাংশ সময় মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন কক্ষে ফিরতে গড়িমসি করেন সাংসদরা। মাগরিবের নির্ধারিত বিরতি বাদ দিয়ে এখানে অপচয় ৩ হাজার ২৭৬ মিনিট। আর দিনের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব বা দু'বেলার অধিবেশনের ক্ষেত্রে বিকেলের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব করায় অপচয় ৩ হাজার ১৩২ মিনিট। অন্যদিকে আসরের নামাজের ২০ মিনিটের নির্ধারিত বিরতির বাইরেও সাংসদদের বিলম্বে অপচয় আরও ১ হাজার ৪৯৯ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সারে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ৭ জুন সংসদের অধিবেশন বসার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৪টা। আগের দিন সময় নির্ধারণ হলেও ৭ জুন দুপুরের পর স্পিকার নিজ ক্ষমতাবলে সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পুনর্নির্ধারণ করেন। পুনর্নির্ধারিত সময়েও সাংসদরা আসতে পারেননি। অবশ্য এক্ষেত্রে সময় অপচয়ের হিসাব ধরা হয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকেই। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় ৪৫ মিনিট বিলম্বে। প্রথম বছরের ২৮ জুন এক দিনে ৭০ মিনিট নষ্ট হয়। একই বছরের ২ ও ৫ মার্চ অপচয় হয় ৬৬ মিনিট করে।
গত বছর ৩ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর সামনের সারির ২৯ আসনের কোনো সাংসদই উপস্থিত ছিলেন না। ২০০৯ সালের ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় সংসদ বসার সময় নির্ধারিত হলেও তা ৫টা ২৯ মিনিটে শুরু হয়। ২০১১ সালের ১৪ মার্চ কোনো সময় অপচয় ছাড়াই দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সংসদের কার্যক্রম চলে।
তারও আগে নবম সংসদের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় সময় নষ্টের পর্ব। সংসদের নথি অনুসারে সেদিন ৬৭ মিনিট নষ্ট হয়। বিকেল ৩টার অধিবেশন বসে ১৬ মিনিট বিলম্বে। অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর নতুন স্পিকারের শপথের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ মিনিট। দেখা গেল ৭১ মিনিট পরও কোরাম পূরণ হচ্ছে না। মাগরিবের নামাজের ২০ মিনিটের বিরতিও সেদিন প্রলম্বিত হয়েছিল। মাগরিবের নামাজের দীর্ঘায়িত বিরতি চলে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন নির্ধারিত ২০ মিনিট পরও ৪০ মিনিট অনির্ধারিত বিরতি চালিয়ে নেন সাংসদরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদের বাজেট যখন ৪৫ কোটি টাকা, তখনই মিনিটে ১৯ হাজার টাকা খরচের হিসাব ছিল। এখন এ বাজেট কয়েকগুণ বাড়ায় প্রতি মিনিটের খরচ ৩০ হাজার টাকা। তা ছাড়া মিনিটপ্রতি খরচের হিসাবে কেবল সংসদের খরচের হিসাব হয় না। প্রত্যেক সাংসদের বেতন-ভাতা, মন্ত্রীদের স্টাফ-গাড়ি-অফিসসহ সব খরচ যুক্ত হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গণপূর্ত, টেলিফোন, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেলসহ সব খরচ যোগ করে প্রতি মিনিটের হিসাব নির্ধারিত হয়। সে কারণে সময় অপচয়ের হিসাব বড় হলে টাকার অঙ্ক আরও বড় মনে হয়। এর আগে এ সংসদের প্রথম বছরের ওপর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এমন হিসাব প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল সংসদ ও সরকার।
সংসদের বেশ ক'জন সিনিয়র স্টাফ বলেন, রুলস অব প্রসিডিউরে এ বিষয়ে কিছু পরিবর্তন এনে সময় অপচয় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, সময় অপচয় অবশ্যই গর্হিত কাজ। তিনি বলেন, যেটুকু সময় ব্যবহার হচ্ছে বলে দেখানো হয় তাও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।
টার্গেট ছিল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা
সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অভ্যুত্থানের প্রধান টার্গেট ছিল রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রধান ব্যক্তিসহ ১৩ নাগরিক। তাদের হত্যার মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থান সফল করার নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন হিট লিস্টের এক নম্বরে। রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান ছিলেন তিন নম্বরে। হত্যা পরিকল্পনার দু'নম্বরে ছিলেন এক ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা। হিট লিস্টে থাকা বাকি ১০ জনও সেনা কর্মকর্তা। সেনাবাহিনীর একটি নির্ভরশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সূত্র জানায়, পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ ১১ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করার ছক তৈরি করা হয়। যেসব সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করার ছক তৈরি করা হয়েছিল তারা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে তারা তালিকা তৈরি করে। কোন কর্মকর্তাকে কীভাবে হত্যা করা হবে_ সে ছকও বানানো হয়। কিছু কর্মকর্তাকে জিম্মি করার পরিকল্পনাও ছিল।
এদিকে সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত খুনিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর শরিফুল ইসলাম ডালিমের (বরখাস্ত) সম্পৃক্ততার বিষয়ে কিছু তথ্য এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। ডালিম মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনা সরকার সম্পর্কে উস্কানিমূলক লেখা সংবলিত একটি ব্লগ খোলেন।
এদিকে পরিকল্পনাকারী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে একটি টিম কাজ করছে। ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যেসব প্রবাসী নাগরিকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে। এমনকি সন্দেহভাজন প্রবাসী নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত কাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে_ তা বের করতে দুটি বিশেষ টিম কাজ করছে। সন্দেহভাজন কয়েক বেসামরিক নাগরিকের গতিবিধির ওপর নজরদারি রাখা হয়েছে। গত কয়েক মাসে তারা কোন কোন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন, তার তালিকা বের করে যাচাই-বাছাই চলছে। পরিকল্পনায় জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে
দেশি-বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। এরপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব ঘটনায় জড়িত দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ল্যাপটপসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত। ল্যাপটপে পাওয়া পুরো পরিকল্পনা।
একটি নির্ভরশীল সূত্র জানায়, পরিকল্পনায় জড়িত সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) এহসান ইউসুফের ল্যাপটপ থেকে এরই মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার মতো পর্যাপ্ত তথ্য। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হিযবুত তাহ্রীর ও হরকাতুল জিহাদসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সন্দেহভাজন সেনা কর্মকর্তাদের যোগসূত্রের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মাওলানা ইয়াহিয়ার সঙ্গে কোনো ধর্মান্ধ সেনা কর্মকর্তার যোগাযোগ ছিল কি-না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কিছু সদস্য অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালান। এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক। কিছু প্রবাসী নাগরিক সম্প্রতি বিভিন্ন নামে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সারাবিশ্বে প্রচার চালান। কিছু সংগঠনের ব্যানারে এসব প্রচার চালানো হয়। এসব সংগঠনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ১৩ ডিসেম্বর সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা পরিকল্পনার তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এরপর অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থানচেষ্টা তদন্তে ২৮ ডিসেম্বর একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জানুয়ারি সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সরকার উৎখাতের অপচেষ্টা দেশবাসীকে জানানো হয়।
মেজর ডালিমের উস্কানি : একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর ডালিম ওয়েবসাইটে নানা উস্কানিমূলক লেখা পোস্ট করেন। এসব লেখায় মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত এবং বঙ্গবন্ধুর সরকারকে চরমভাবে কটাক্ষ করা হয়।
গণভবনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকেন্দ্রিক পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে ৮০ সদস্যবিশিষ্ট আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশ; যারা প্রতি রাতে ভারী অস্ত্র নিয়ে গণভবনের আশপাশের এলাকায় নিযুক্ত থাকে। পুলিশ বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে কিছুদিন ধরে রাত ১১টার পর গণভবনের পাশের সড়ক সাধারণ নাগরিকের চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে গণভবনকেন্দ্রিক বাড়তি নজরদারি থাকে রাত ১০টার পর থেকেই। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের পর ১০ জানুয়ারি থেকে গণভবনকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইমাম হোসেন সমকালকে বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে গণভবনকেন্দ্রিক পুলিশের নিরাপত্তা শক্তিশালী করা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রস্তুত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গণভবনকেন্দ্রিক তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে_ প্রথমত, গণভবনের নিকটতম পুলিশি নিরাপত্তা, মধ্যদূরবর্তী নিরাপত্তা ও দূরবর্তী নিরাপত্তা। দূরবর্তী নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রতি রাতে পুলিশের বিশেষ তিনটি টিম ভারী অস্ত্রসহ তিনটি এলাকায় টহলে থাকে। এসব এলাকা হলো_ বিজয় সরণি মোড়, আসাদ গেট ও শ্যামলী শিশুমেলা। রাত ১০টার পর তিন প্লাটুন পুলিশ ভাগ হয়ে গোটা এলাকায় অনবরত রাউন্ড দিতে থাকে। এ ছাড়া গণভবনের আশপাশের এলাকায়ও থাকে পুলিশের টহল। গণভবন লাগোয়া চন্দ্রিমা উদ্যানেও বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গণভবনকেন্দ্রিক পুলিশ ফোর্স দ্বিগুণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন এসএসএফ ও পিজিআর সদস্যরা। ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানচেষ্টার পর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের সুপারিশ করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারক করছেন একজন উপকমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন একজন সহকারী কমিশনার (এসি) এবং একজন পরিদর্শক। তাদের সঙ্গে থাকছেন ৬০ পুলিশ সদস্য।
সরকার উৎখাতের চেষ্টা ১১ সেনা কর্মকর্তাকে চিহ্নিত, জিজ্ঞাসাবাদ
সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও সরকার উৎখাতের ব্যর্থ চেষ্টার ঘটনায় গতকাল রোববার পর্যন্ত ১১ জন পদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন মেজর জেনারেল, একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, দুজন লে. কর্নেল, ছয়জন মেজর ও ক্যাপ্টেন পদের একজন কর্মকর্তা।
দায়িত্বশীল সেনাসূত্র জানায়, ছয় সদস্যের তদন্ত আদালত এসব কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদের একজন কর্মকর্তাকে প্রধান করে গত ২৮ ডিসেম্বর সেনাসদর এ তদন্ত আদালত গঠন করে।
সেনাসূত্র জানায়, সংযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন কুমিল্লার ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার (জিওসি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাভারে নবম পদাতিক ডিভিশনের ৭১ ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তারিকুল আলম, ঢাকা সেনানিবাসের লে. কর্নেল সারোয়ার ও লে. কর্নেল জগলুল হক। এঁদের এবং তানজীব নামের একজন ক্যাপ্টেনকে ঢাকা সেনানিবাসের লগ এরিয়ায় সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ব্রিগেডে মেজর পদের দুজন ও সিগন্যালস ব্রিগেডে একজন মেজর সংযুক্ত আছেন। ঢাকার বাইরে রংপুর, কুমিল্লা ও সাভারে একজন করে মেজর পদের কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়।
ফোনালাপের সূত্র ধরে এসব কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ওই সূত্র আভাস দিয়েছে।
১৯ জানুয়ারি সেনা সদর দপ্তরের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কিছু সদস্য দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর এ পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। বলা হয়, সেনাবাহিনীর মধ্যম সারির কয়েকজন কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত। তাঁদের সংখ্যা ১৪ থেকে ১৬ জনের বেশি নয়।
ঢাকায় সেনাসূত্র জানায়, এ ঘটনা তদন্তে শুরুতেই কর্মকর্তারা মেজর জিয়াউল হকের ব্যাপারে তথ্য পান। এরপর এহসান ইউসুফ ও ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাঁদের ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ৮ জানুয়ারি সাভারের ব্রিগেড কমান্ডার তারিকুল আলমকে লগ এরিয়ায় সংযুক্ত করা হয়। এর চার দিন পর ১২ জানুয়ারি সংযুক্ত করা হয় কুমিল্লার জিওসি কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন তানজীবকে। অন্য দুই লে. কর্নেলকে ১৫ জানুয়ারি সংযুক্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সেনাসূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে চিহ্নিত ইশরাক আহমেদ কুমিল্লার জিওসির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে জিওসি এ তথ্য কোনো কর্তৃপক্ষকে জানাননি। তদন্ত আদালত এখনো কামরুজ্জামানের জবানবন্দি নেননি বলে জানা গেছে।
ওই সূত্রমতে, ইশরাক ৭১ ব্রিগেডের কমান্ডার তারিকুল আলমের সঙ্গেও দেখা করেন। ইশরাক নিজে ব্রিগেড কমান্ডারের কার্যালয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে তারিকুল আলম এ তথ্য স্বীকার করেন। তারিকুল বলেন, ইশরাকের সুইডেনপ্রবাসী ভাই ইতরাক তাঁর পরিচিত। সেই সূত্র ধরে ইশরাক তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। ইশরাক একটি উপহার নিয়ে তাঁর কাছে আসেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপহার পাওয়ার পর ইশরাকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারিকুল। তিনি ফোনে এসএমএস ও ই-মেইল করেন। এসব এসএমএস ও ই-মেইল তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে।
অভ্যুত্থান ছক: গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও সরকার উৎখাতের ব্যর্থ চেষ্টার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রথমে সেনাপ্রধানসহ চারজন পদস্থ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁরা একটি কল্পিত সরকারব্যবস্থার ছক তৈরি করেন। ছক অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের মন্ত্রী পদে বসানো হতো। গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা এহসান ইউসুফের ল্যাপটপে এসব পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে।
উগ্রপন্থীর সঙ্গে যোগাযোগ: সূত্রটি জানায়, পলাতক মেজর জিয়াউলের সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রপন্থী সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। এ মাসের শুরুতে সেনানিবাস এলাকায় হিযবুত তাহ্রীর একটি প্রচারপত্র বিতরণ করে। এতে শেখ হাসিনার সরকারকে অপসারণের আহ্বান জানানো হয়। ১৫ জানুয়ারি হিযবুত একই বিষয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাঁটায়। জিয়াউল ছাড়াও এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া লে. কর্নেল হাসিনুর রহমানসহ আরও তিনজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে হিযবুত তাহ্রীরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
র্যাব জানায়, বিদেশে যাওয়ার সময় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গত ২৮ জুলাই হিযবুতের নেতা ও ব্যবসায়ী মাহমুদুল বারীকে র্যাব গ্রেপ্তার করে। তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি বলেন, চাকরিরত দুজন লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান ও লে. কর্নেল যায়ীদ এবং অবসরপ্রাপ্ত একজন লে. কর্নেল ও একজন মেজরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। হাসিনুরের সঙ্গে তিনি গুলশানের একটি হোটেলে বৈঠক করেন। এ ছাড়া জঙ্গিনেতা মওলানা ইয়াহিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাসিনুরের নাম বলেছিলেন বলে র্যাব গোয়েন্দাপ্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান প্রথম আলোকে জানান।
তবে হাসিনুরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী শামীমা আখতার। গত শনিবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হরকাতুল জিহাদের নেতা মওলানা ইয়াহিয়াকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করেন হাসিনুর। তিনি অনেক জঙ্গিনেতাকে ধরতে সক্ষম হন। তিনি জঙ্গি দমন করেছেন। লে. কর্নেল যায়ীদের ছোট ভাই আ. আ. জাবীদ বলেন, তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কখনো কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল না। আইএসপিআরের এ-সংক্রান্ত সংবাদ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
পাঠকের মন্তব্য
সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন
আ.লীগের প্রতিক্রিয়া ব্যর্থ হয়ে এখন তারা উল্টাপাল্টা বকছে
সরকারি দল আওয়ামী লীগ বলেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যেই ধারণা করা যায়, ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানচেষ্টায় তাদের ইন্ধন ছিল।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে এ কথা বলেন।
হানিফ বলেন, মির্জা ফখরুল একদিকে এ ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে শুকরিয়া আদায় করেছেন। এখন ব্যর্থ হয়ে তাঁরা উল্টাপাল্টা কথা বলে নিজেদের রক্ষা এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। বিএনপি যে হত্যা-ক্যুর রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য এই প্রথম সামরিক বাহিনী সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। তারা নিশ্চিত হয়েই তা প্রকাশ করেছে।
জনাব হানিফ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল পূর্ণ তদন্ত চান। আমরাও জানতে চাই, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, নামটা বলুন।’ তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় খালেদা জিয়া ভোরে বাসভবন ছেড়ে পালিয়েছিলেন। আর এবার ডিসেম্বরে তিনি সরকার পতনের কথা বলেছিলেন। এই ডিসেম্বরেই ক্যুর চেষ্টা করা হয়। আবার ১৮ ডিসেম্বর চোরাগোপ্তা হামলা করার চেষ্টা করে বিএনপি-জামায়াত। এসব ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অভ্যুত্থানচেষ্টার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলে, তারা সেনাবাহিনীকে নিয়ে রাজনীতি করতে চায়। অভ্যুত্থানচেষ্টার হোতাদের রক্ষা করার জন্যই মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
পাঠকের মন্তব্য
সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন
-
রহমান
২০১২.০১.২৩ ০৩:২৫ - ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত বিএনপির নির্বাচনে লড়ার ক্ষমতা কেড়ে নেয়া উচিত।
-
Ali
২০১২.০১.২৩ ০৪:৩৩ - নোরা রাজণিতির বহিপকাশ। কাদা ছ্বরা ছৃরি আর কত দিন করবেন।
-
ABDUL MAJID QUAZI
২০১২.০১.২৩ ০৫:১৭ - যারা গনতন্ত্র ও নির্বাচনে বিশ্বাস করেনা, যারা যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চায়না - তারা যে এই কাজের ইন্দন যোগাচ্ছে তা জনগন ভাল করে বুঝে। বাংলাদেশের জনগন বিশ্বের সবচেয়ে স্বচেতন নাগরিক। দুর্ভাগ্য তারা সৎ নেতৃত্ব পাচ্ছেনা । শিল্পোন্নত বিশ্বে জনগন কাজ আর বারে সময় কাটায়। বাংলার জনতা কাজের পর আত্ম সমালোচনা না করলে ও রাজনীতির ব্যাখ্যা বিশ্লেষনে সময় ব্যয় করে।
-
Tayyip Rahman
২০১২.০১.২৩ ০৫:২৬ - I agree with Ashraf. I want to know why Khaleda threatened present govt on a speech last month. Why Khaleda fled during BDR revolt and where did she go?
-
ibne mizan
২০১২.০১.২৩ ০৫:২৭ - আসলেই আওয়ামী লীগের অর্জন কি? তারা জাতিকে কি কিছু দিয়েছে? বিএনপি ই বা কি করেছে?
কিন্তু সেহেতু কেউ ই কিছু দিতে পারছে না। তাই জনগন বার বার পরিবর্তন চায়। -
Shopon
২০১২.০১.২৩ ০৫:৩২ - When government is failer in all sector than they creat this story to move our eys.I really don't belive them.If it's really happend,how they acuse someone before investigate????????
it's really so pathetic fo our Nation. -
daud rahman
২০১২.০১.২৩ ০৬:০৮ - হানিফ সাহেব, আপনারাও জনগনের বিচারবুদ্ধিকে এত নিচুস্তরের মনে করবেন না ৷ তথ্য এবং প্রমানসহ বলুন বিএনপির ভুমিকা কি৷ ইচ্ছামত যা মনে হয় তাই দিয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য চরিতার্থ করবেননা৷ আওয়ামী লীগের ইতিহাস আর ভুমিকাকে অপমান করবেননা৷
-
mohammad rahman
২০১২.০১.২৩ ০৬:৩০ - এভাবে চলতে থাকলে একদিন ঘটনা সবার নিয়নএনের বাইরে চলে য়াবে। তখন পরসপরকে দোষ দেয়ারও আর সুযোগ পবেন না।
-
Utpol Shaha,England
২০১২.০১.২৩ ০৭:৪৯ - দু-দলের এ ধরনের ঝগড়া দেখে বিদেশের ক্যাম্পাসে আমাদেরকে সহপাঠিদের কাছে হেয় হতে হয়।
-
মনিরুজ্জামান
২০১২.০১.২৩ ০৮:০৭ - সব ঘটনা এক সুতরে বাধা মনে হয়, মির্জা ফখরুলের বক্তব্য, বি এন পি জামাতের কাজ সব মিলিয়ে আমরা ব্যপারটি উড়িয়ে দিতে পারছি না। আশাকরি তদন্তে সব বের হয়ে আসবে।
-
Mahmudul Islam
২০১২.০১.২৩ ১০:১০ - বড়ই মজা পাইলাম।
-
Rashad Ahemd
২০১২.০১.২৩ ১০:১৪ - বাংলার জনতা-দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, গুম, খুন, হত্যা-অপহরণ যখন নিত্যকার ঘটনা, তখন এসব সংকট নিরসনে ব্যর্থ সরকার দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে।
-
Joy
২০১২.০১.২৩ ১০:২০ - জন্মপরিচয়হীন এই সব রাজাকারের দল বিএনপি আর জামায়াতের বিরুদ্ধে আসুন আমরা সবাই সোচ্চার হই।
-
Ali Ahsan
২০১২.০১.২৩ ১০:৩০ - High-bred Leader.
Mr. Hanif is loosing image of AL. -
Arifur Rahman Jyoty
২০১২.০১.২৩ ১০:৪১ - এই নোংরা রাজনীতি ভালো লাগেনা।
-
Muhammad Foysal
২০১২.০১.২৩ ১০:৪৩ - দুই দলের হাত থেকে আমাদের বাচানোর মত কেউ কি আসবেনা ?
-
M. Abdul. Hannan
২০১২.০১.২৩ ১০:৪৬ - সব কিছুই যুদধঅপরাধিদের বাচানোর অপচেষটা মাএ। তবে ৭১ এর সেই পরাজিত শক্তি এখনও যে কত ভয়ংকর সেটা আবারও দেখা যাচছে। এদেরকে যত তাড়াতাড়ি উচিত সমুলে উৎপাটন করা। এদের আর সুযোগ দেয়া উচিৎ না।
-
T Alahee
২০১২.০১.২৩ ১০:৪৯ - কিন্তু মানুষ তো অন্য কথা বলছে। তারা বলছে, আপনাদের জনসমর্থন যে হারে কমে যাচ্চে তাতে আগামী ইলেকশন আসার আগেই তা তলানীতে গিয়ে ঠেকবে।
-
N. Hasan Razu
২০১২.০১.২৩ ১০:৫৪ - আ: লীগ/বিএনপি র কথায় কান না দেয়াই ভাল। এরা যাদের স্বৈরশাসক বলে, ক্ষমতার লোভে তাদেরই পেছন পেছন ছুটে । লজ্জা তখন আমাদেরই পেতে হয়।
-
Md.Faroque Hossain
২০১২.০১.২৩ ১০:৫৫ - brothrer Joy, if we stand against b.n.p and Jamat, what will be our benefit? what do we get from our present goverment? did they work for people?
-
mohammed shamim
২০১২.০১.২৩ ১০:৫৫ - It's realy very funny. What is the real ???????????
বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সরকার প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে: বিএনপি
সেনা অভ্যুত্থান সফল না হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়েছে বিএনপি। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, তদন্তাধীন বিষয়ে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাষায় অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। দলটি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
গতকাল রোববার বিকেলে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল করতে বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা একই সূত্রে গাঁথা।
লিখিত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের হীন উদ্দেশ্যে একটি স্পর্শকাতর ঘটনাকে ব্যবহার করতে চাইছে। সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে তারা ঘটনার বিবরণের সঙ্গে বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত করার নির্দেশনা দিয়েছে। সেনাসদরের সংবাদ সম্মেলনে এমন কিছু মন্তব্য চলে এসেছে, যেগুলো রাজনৈতিক রঙে রঞ্জিত। কিছু কটাক্ষমূলক মন্তব্য ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার মহাসংকটে পড়েছে। তাই গত ডিসেম্বরে সংঘটিত একটি পুরোনো কাহিনির অসম্পূর্ণ প্রচার করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, জনগণের দৃষ্টিকে অন্য খাতে প্রবাহিত করা। তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করা এবং তাদের দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহারের বিপজ্জনক খেলা থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ-ও বলেন, ‘একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনায় বিএনপি গভীরভাবে উৎকণ্ঠিত। অভ্যুত্থান সফল না হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই। তাঁর অপার অনুগ্রহে রক্তপাত ও সংঘাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং অসামরিক শাসন ও সাংবিধানিক ধারা বজায় রয়েছে।’ তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীতে কোনো বিভেদ-বিভাজন, হঠকারিতা-বিশৃঙ্খলা বিএনপি দেখতে চায় না। সেনা ছাউনিগুলোতে অবিশ্বাস, হানাহানি, দ্বন্দ্ব, সংঘাত চায় না। তিনি সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, যেকোনো উসকানির মুখে হঠকারিতা পরিহার করুন। ভেতরে শত্রুর গুপ্তচরেরা ঢুকে যেন কোনো ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।
অভ্যুত্থান-চেষ্টা সফল না হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়, আবার এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্ববিরোধিতা কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী কিছু নেই। বিএনপি সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ঘটনাটি প্রকাশের পর থেকে খোদ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরাসহ শাসক দলের বিভিন্ন ব্যক্তি এবং ভারতীয় প্রচারমাধ্যম যেভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অসত্য, বিভ্রান্তিকর, দায়িত্বজ্ঞানহীন, উসকানিমূলক, আক্রমণাত্মক একতরফা মন্তব্য করে চলেছেন, তার জবাব দেওয়া বিএনপির প্রয়োজন।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, গুম, খুন, হত্যা-অপহরণ যখন নিত্যকার ঘটনা, তখন এসব সংকট নিরসনে ব্যর্থ সরকার দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে।
বিএনপির এই নেতার অভিযোগ, বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য শাসক দলের চিন্তারই প্রতিফলন। ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তাকে লগ এরিয়ায় সংযুক্ত করার খবর এসেছে। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে শুধু মধ্যম সারির কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যর্থ অভ্যুত্থান-চেষ্টায় জড়িত বলে জানানো হয়েছে। প্রচারিত তথ্যে তদন্ত আদালত কাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে, জানানো হয়নি। কিছু যোগাযোগের তথ্য ছাড়া অভ্যুত্থান-চেষ্টার বিশদ কোনো বিবরণও দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, একটি গুরুতর ও স্পর্শকাতর বিষয় উপস্থাপনের সময় রাজনৈতিক ধাঁচের বক্তব্য দিয়ে যাতে বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
ভারতের গণমাধ্যমে এ ঘটনার সঙ্গে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জড়িত থাকার সংবাদ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেনা অভ্যুত্থান-চেষ্টার ঘটনা নিয়ে ভারতীয় প্রচারমাধ্যম বিভিন্ন মতলবি প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা অসত্য, মিথ্যা ও বনোয়াট কাহিনি ছেপেছে।’
পাঠকের মন্তব্য
সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন
-
RAM KANAI DAS
২০১২.০১.২৩ ০৩:১৪ - ভুতের মুখে রাম নাম.........
-
ABDUL MAJID QUAZI
২০১২.০১.২৩ ০৫:১৮ - মাচের মার পুত্র শোক !
-
Tayyip Rahman
২০১২.০১.২৩ ০৫:২৯ - Fakhrul is putting the best of BNP. But we are not blind. Hundreds of main stream AL leaders killed when BNP was in power. Ballot should change the govt not back door coup.
-
Mohamed S Rahman
২০১২.০১.২৩ ০৫:৫০ - বি এন পি কিংবা বি এন পি'র কে ষড়যংত্রমূলক রাজনীতি ও কু'দেতায় বিশ্বাস করে না। কিন্তু ১৯৭৭ এর ৩রা অক্টোবর যে কু'দেতার সৃষ্টি হয়েছিল এ কয়েকশত বিমান সেনাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল এবং কয়েক হাযার বিমান সেনাকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও চাকুরীচ্যুত করা হয়েছিল তা কে করিয়েছিল?
-
mohammad rahman
২০১২.০১.২৩ ০৬:২২ - সিমান্তের ঘটনা অন্য দিকে চালানোর আর একটা সুযোগ !!
-
মনিরুজ্জামান
২০১২.০১.২৩ ০৮:৩৫ - ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের হীন উদ্দেশ্যে একটি স্পর্শকাতর ঘটনাকে ব্যবহার করতে চাইছে।--------পানি ঘোলা করেছেন, সরকার তো মাছ শিকার করবেই।
-
nurul absar hussain
২০১২.০১.২৩ ০৯:৩০ - মির্জা সাহেব আসা করি সেনা বাহিনীকে বিতর্কিত করিবেন্ না. কারণ আপনাদের জম্মই সেনাবাহিনীর অনুকুল্ল্যে.আর দেশের লোক এখনো আপনাদের রাজনীতিক নামক লোক হইতে ওই সেনাবাহিনীর উপর আস্তা রাখে বেশি.
-
Onushandhani
২০১২.০১.২৩ ০৯:৪৫ - প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরাসহ যেভাবে কথা বলছেন তাতে এই ঘটনা আর বিশ্বাস হয়না।
-
Onushandhani
২০১২.০১.২৩ ০৯:৫৯ - মন্তব্য করে লাভ নাই কারন কাটাকাটি করার লোকের কাটাই আসল কাজ।
- ২০১২.০১.২৩ ১০:২১
- BITTER TRUE : Some one is benefited from BDR incident now they plot for Bangladesh amy.
-
M. Abdul. Hannan
২০১২.০১.২৩ ১০:৩৮ - মির্জা সাহেব- ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনা !
mohammad rahman
২০১২.০১.২৩ ০৩:০২Hafizur Rahman
২০১২.০১.২৩ ০৩:০৫রহমান
২০১২.০১.২৩ ০৩:২২MUHAMMAD
২০১২.০১.২৩ ০৩:৫২daud rahman
২০১২.০১.২৩ ০৫:২৬mohammad rahman
২০১২.০১.২৩ ০৬:১৬Sheikh Rafiq
২০১২.০১.২৩ ০৯:০১nurul absar hussain
২০১২.০১.২৩ ০৯:৩৪Md. Imran Ullah
২০১২.০১.২৩ ০৯:৫৯MD. ZULHASH UDDIN
২০১২.০১.২৩ ১০:০৫Mohammad
২০১২.০১.২৩ ১০:৩১M. Abdul. Hannan
২০১২.০১.২৩ ১০:৩৪noyonika
২০১২.০১.২৩ ১০:৪৫Md. Shahidullah
২০১২.০১.২৩ ১০:৫২robiul
২০১২.০১.২৩ ১০:৫৫S.M. Arman
২০১২.০১.২৩ ১১:০০