kazi ashraful islam

kazi ashraful islam

Saturday, January 28, 2012

মহাজোট ফুটন্ত কড়াই : আর বিএনপি-জামায়াত জলন্ত চুলা

যাযাদি রিপোর্টবাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, মহাজোট সরকারের তিন বছরে এ দেশের মানুষ কিছুই পায়নি। এ সময় দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, কিন্তু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ডাবল ডিজিট ছুঁয়েছে মূল্যস্ফীতি। অথচ মানুষের আয় এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে। ফুটন্ত কড়াইয়ের অসনীয় উত্তাপে দেশবাসীর জীবন আজ অসহনীয়! তাই দেশবাসী ফুটন্ত কড়াই থেকে বাঁচতে চায়। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত উদ্ধারকর্তার মুখোশ পরে হাজির হয়েছে। কিন্তু তারা কি মানুষের যন্ত্রণা থেকে উদ্ধার করতে পারবে? কারণ, মহাজোট যদি 'ফুটন্ত কড়াই' হয়, তাহলে বিএনপি-জামায়াত 'জ্বলন্ত চুলা'। একদিকে আপদ, অন্যদিকে বিপদ। আপদ-বিপদের বাইরে আছে 'মহাবিপদের' মহাসঙ্কেত। জামায়াত-শিবিরসহ অসংখ্য সশস্ত্র জঙ্গি সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মার্কিন-সৌদি টাকায় ষড়যন্ত্রের ছোবল হানতে উদ্যত হয়েছে। বিএনপিকে তিনি জামায়াতের সংশ্রব ত্যাগ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জনতার সংগ্রামে শামিল হতে আহ্বান জানান। শুক্রবার রাজধানীর মৎস্য ভবন সড়কে সিপিবির খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমাও, জান বাঁচাও, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং জনজীবনের সঙ্কট নিরসনে ১১ দফা দাবিতে আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মঞ্জরুল আহসান খান। সভা পরিচালনা করেন রুহিন হোসেন প্রিন্স। দীর্ঘ ১১ বছর পর অনুষ্ঠিত সিপিবির জাতীয় সমাবেশে সারাদেশের সব জেলা-উপজেলা থেকে পার্টির হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে যোগ দেন। তারা কাস্তে-হাঁতুড়ি খচিত লালপতাকা হাতে সমাবেশে আসেন। মূল বক্তব্যে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশ চালানোর চেষ্টায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ইন্ধন দিচ্ছে। এসব দলে দলবাজি আছে। কিন্তু রাজনীতি থাকে না- আছে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও ক্যাডারবাজি। সমাবেশে রাজনৈতিক বক্তব্য নেই। আছে নেতা-নেত্রীর নামে জিগির করা, ছবির প্রদর্শন, নমিনেশন বাণিজ্য। এসব দলের নাম বদলে 'তদবির দল' বা 'তদবির লীগ' করলেই ভালো। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী বলেন- সব কিছু ভালো আছে। দ্রব্যমূল্য ৬ নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। দ্রব্যমূল্য বাড়লে শেখ হাসিনা সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারের কাজ বাজার করবে। এর আগে খালেদা জিয়ার একমন্ত্রী বলেছেন, 'আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়েছে'। সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের অকাল মৃত্যু সম্পর্কে সম্প্রতি এমন কথা একজন প্রতিমন্ত্রীও বলেছেন, অকাল মৃত্যু বলে কিছু নেই। এ ধরনের কথা ইসলামবিরোধী। কারণ জন্ম-মৃত্যু-হায়াৎ-মউত সব আল্লাহর হাতে। যারা বলে তারা ইসলাম মানে না। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য রেসনিং ব্যবস্থা চালু, টিসিবিকে শক্তিশালী করতে হবে। ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু, বিএডিসিকে শক্তিশালী করতে হবে। বাফার স্টক গড়ে তুলতে হবে। ক্রেতা ও উৎপাদকদের সমবায় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে গণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু সরকার এসব করবে না বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, সামাজ্যবাদের কারণে। তাই তিনি শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে কমিউনিস্ট পার্টিকে সরকার চালাতে দিতে বলেন। তিনি বলেন, মহাজোট সরকার বিদ্যুৎ, পেট্রল-ডিজেল-কেরসিনের দাম বাড়িয়েছে। পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। সারের দাম বাড়িয়েছে। কোথায় গিয়ে এর শেষ হবে? ডলারের দাম বেড়েছে, টাকার দাম কমেছে। ব্যাংকে নগদ টাকা কমে গেছে। তারল্য সঙ্কট চলছে। ব্যাংক ঋণের বেশিরভাগ সরকার নিয়ে নিচ্ছে। নতুন মুদ্রানীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে। অর্থনীতিতে ভয়াবহ মন্দার পদধ্বনি স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। একটি বড় বিপদ সামনে। বিপদের লালবাতিকে অস্বীকার করাটা আরো বড় বিপদ বাড়ানোর চেষ্টা করা। তিনি বলেন, শেয়ার মার্কেটে ৩০ লাখ ক্ষুদে বিনিয়োগকারী পথে বসেছে। ৬০ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। সরকারের মন্ত্রী বলেছেন, শেয়ারবাজারে সাত হাজার ইনডেক্স স্বাভাবিক, ১০ হাজার ইনডেক্স অস্বাভাবিক। এখন ইনডেক্স চার হাজারে নেমে এসেছে। এটা কিসের লক্ষণ? তিনি বলেন, '৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের ধারা থেকে দেশকে পাকিস্তানি ধারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে সেই ধারাকে সংবিধানে ঢুকানো হয়েছে। কদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট এসব সংবিধান বাতিল করলে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ দল। মহাজোটের পঞ্চদশ সংশোধনীর সুবাদে জামায়াতকে সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এরশাদের 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' ও জিয়াউর রহমানের 'বিসমিল্লাহ' বহাল রাখা হয়েছে। মুজিবের দিক থেকে আওয়ামী লীগ বিএনপির দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, আপদ-বিপদ ও নতুন সংস্করণ ওয়ান ইলেভেনের বলয় থেকে দেশকে উদ্ধার করতে সিপিবি কমিউনিস্ট ঐক্যের ও বামপন্থীদের ঐক্যের ডাক দেন। মঞ্জরুল আহসান খান বলেন, তেল, গ্যাস, কয়লাসহ সব কিছুর সঙ্কট চলছে। দেশের সম্পদ লুটপাট করা হচ্ছে। গ্যাস, কয়লা লুটপাট করা হচ্ছে। আমরা দেশের সম্পদ লুটপাট করতে দেব না। তিনি বলেন, কুইক রেন্টালের নামে কুইক সরকারদলীয়দের পকেট ভারি করা হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে এসব বন্ধ করতে হবে। দেশে এখন কেবল খাই-খাই পার্টি। নদী-খাল-বিল সব খেয়ে ফেলছে। পুকুর চুরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাশে ছিল। প্রতিবেশী সব দেশের সাথে সার্কভুক্ত দেশগুলোর আমরা বন্ধুত্ব চাই। ভারতের সাথে আমরা বন্ধুত্ব চাই কিন্তু কাটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না। সীমান্তে অব্যাহত হত্যাকা-, তিস্তা, ফারাক্কা, টিপাইমুখ বা অন্যান্য অভিন্ন নদীর উপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বন্ধুত্ব হয় না। তিনি বলেন, সম্প্রতি সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা দমন করা হয়েছে। অতীতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। দুজন রাষ্ট্রপতি, জাতীয় নেতারাসহ অনেককে হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে আমরা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না। আমরা সাধুবাদ জানাই। এছাড়া তিনি ২০০১ সালে পল্টন বোমা হামলার বিচার দাবি করেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ বলেন, কিছুসংখ্যক কুলাঙ্গারের সহায়তায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনী হত্যা, লুণ্ঠন ও মা-বোনদের ধর্ষণ করেছিল। তাদের বিচার হয়নি। এই বিচার এ সরকার শুরু করলেও দেরি করে ফেলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিলম্ব করে ফেলেছেন। তলে তলে আতাতের কথাও শুনি। তিনি প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রসঙ্গে বলেন, যদি বন্ধুত্ব চান অভিন্ন ৫৭টি নদীর ওপর কোনো ধরনের স্থাপনা তৈরি করবেন না। প্রেসিডিয়াম সদস্য সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠন ও গার্মেন্ট শ্রমিকদের নূ্যনতম মজুরির দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি। সরকার মজুরি কমিশনের সুপারিশ না মেনে অগ্রহণযোগ্যভাবে মালিকপক্ষের কথায় মজুরি নির্ধারণ করেছে। বর্তমান শ্রম আইন শ্রমিকদের শোষণের বৈধ হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেন, আমরা এত বছরেও দেশপ্রেমিক সরকার পেলাম না। আমার দেশের গ্যাস, কয়লা যারা বিদেশিদের হাতে তুলে দেয় তারা দেশ কি দেশপ্রেমিক সরকার? আফগানিস্তান, ইরাকে বোমা ফেলতে আমেরিকাকে আমার দেশের আকাশ, নৌ ও সড়কপথ ব্যবহার করতে দেয়া হয় তারা দেশপ্রেমিক সরকার! তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার আমেরিকার সাথে সোফা চুক্তি করেছে। আমেরিকার সেলজাররা আমার দেশে যে কোনো পথে বিনা পাসপোর্টে ঢুকতে পারবে। এদেশে ধর্ষণ ও খুন করতে পারবে কোনো বিচার হবে না; লজ্জা, লজ্জা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তার সরকারকে আমেরিকা সরিয়েছিল। তাই বোধহয় তিনি ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে সব গ্যাস আর কয়লা আমেরিকাকে দিয়ে খুশি করতে চান। প্রবীণ সদস্য জসীম উদ্দিন ম-ল বলেন, ছোট জাত না মারলে বড় জাত হওয়া যায় না। দামি রেশমি শাড়ি তৈরি করব আমি কিন্তু সেটা আমার কপালে নাই। এ দেশের মালিক আমেরিকা আর সামাজ্যবাদ। তিনি বলেন, বিদেশের সঙ্গে চুক্তি করব যদি সেই চুক্তি তারা ভঙ্গ করে, তবে তাদের তালাক দেব। সভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্ষেতমজুর নেতা শাসচ্ছুজ্জামান সেলিম, কৃষক নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন, নারী নেত্রী লক্ষ্মী চক্রবর্তী, গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনের নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব লাভলু, যুবনেতা কাফি রতন এবং ছাত্রনেতা ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল। প্রসঙ্গত দীর্ঘ ১১ বছর পর সিপিবি এই জাতীয় সমাবেশের আয়োজন করে। এর আগে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবি লালপতাকার মহাসমাবেশ করেছিল। পল্টনের ওই সমাবেশে বোমা হামলায় হিমাংশু, মজিদ, মোক্তার, হাশেম ও বিপ্রদাশ শহীদ হয়েছিলেন। অনেকে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। গতকাল সমাবেশ শেষে লালপতাকার মিছিল শাহবাগ-নিউমার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে সিপিবির ১১ দফা দাবি হচ্ছে- খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জান বাঁচানো, গ্রাম ও শহরে গরিব মানুষের জন্য স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা, সরকারি ন্যায্যমূল্যের দোকান, ভোক্তা ও উৎপাদক সমবায় কার্যক্রম, টিসিবি ও বিএডিসির কার্যকর শক্তি বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত 'গণবণ্টন ব্যবস্থা' গড়ে তোলা। এছাড়া রয়েছে ভেজাল রোধ করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি প্রদানের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, টাকার খেলা বন্ধ, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুসহ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো, উপজেলাসহ স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোকে আর্থিক ক্ষমতাসহ পূর্ণ কর্তৃত্ব দিয়ে ক্ষমতায়ন করা। '৭২-এর সংবিধানের মূল ভিত্তির পরিপন্থী সামপ্রদায়িক ধারা বাতিল করা এবং বিভিন্ন জাতিসত্তার আদিবাসীদের জাতি পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও অন্যান্য অসম্পূর্ণতা দূর করে '৭২-এর সংবিধানের মূলভিত্তি পুন:প্রতিষ্ঠা করা, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, সামপ্রদায়িক, ধর্মান্ধ, উগ্র মৌলবাদী শক্তির তৎপরতা প্রতিহত করা। সার-ডিজেলসহ কৃষি উপকরণের দাম কমানো, প্রকৃত কৃষকের হাতে পাটসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, ক্ষেতমজুরদের সারাবছর কাজের ব্যবস্থা ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রদান করা। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার সহযোগীদের আধিপত্য ও চক্রান্ত প্রতিরোধ করা, সব গোপন চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করা এবং জাতীয় সংসদে পেশ করা, ট্রানজিট, তিস্তার পানিবণ্টন, অভিন্ন নদী শাসনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি-সমঝোতার প্রশ্নে বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বার্থরক্ষা ও পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সীমান্তে বিএসএফের হত্যা-নির্যাতন বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেয়া, পাঁচ হাজার টাকা জাতীয় নূ্যনতম মজুরি নির্ধারণসহ শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি হার নির্ধারণ, স্থায়ী মজুরি কমিশন ও আইএলও সনদ মোতাবেক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান করা, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, যানজট, জলাবদ্ধতা, পরিবেশ বিপর্যয় ইত্যাদি সমস্যার জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির দাম বৃদ্ধি বন্ধ করা, ঘুষ-দুর্নীতি, বেপরোয়া চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, নদী-খাল-জলাশয় ভরাট ও দখল, তদবির-বাণিজ্য, সন্ত্রাস, ছিনতাই, যৌন-নির্যাতন, গুম-খুন, ক্রসফায়ার ও দমনপীড়ন বন্ধ করা। গৃহায়ণ, আবাসন, পরিবহন ও যাতায়াত, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, পরিবেশ প্রভৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধনিক তোষণ নীতির আমূল পরিবর্তন করে গণমুখী নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা। দেশ থেকে দারিদ্র্য, বেকারত্ম, বৈষম্য দূর করার ব্যবস্থা কর, সমুদ্র বক্ষে তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে রপ্তানির সুযোগ রেখে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে স্থলভাগে অথবা সমুদ্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মাধ্যমে দ্রুত গ্যাস-তেল উত্তোলনের ব্যবস্থা করা এবং গ্যাস-তেল প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদের রপ্তানি নিষিদ্ধ করে সংসদে আইন পাস করা।

Sunday, January 22, 2012

সময় অপচয় আট হাজার মিনিট

সজল জাহিদ
গত তিন বছরে মাত্র তিন দিন নির্ধারিত সময়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু করা গেছে। দিনের কার্যক্রমে একটি মিনিটও অপচয় হয়নি_ এমন কার্যদিবস আছে মাত্র একটি। এর মধ্যে এমন একটি দিনও আছে যেদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ কার্যক্রমে ঢুকতে পেরেছেন স্পিকার। এ ছাড়া তিন বছরে সংসদের ২৫৪ কার্যদিবসের চিত্র
অভিন্ন। কোনো কারণে সংসদ কার্যক্রম কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি করা হলেও সেটি পেঁৗছে গেছে দীর্ঘক্ষণে। কোনো কোনো দিন সময় অপচয়ের হিসাব দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত গেছে।
নবম সংসদের প্রথম তিন বছরের ১১টি অধিবেশনের মধ্যে যে ১০টি অধিবেশনের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সার প্রকাশিত হয়েছে সেখান থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। তাতে ১০ অধিবেশনের ২৪১ দিনের হিসাবই আমলে নেওয়া সম্ভব। একাদশ অধিবেশনের সংক্ষিপ্ত সার এখনও অপ্রকাশিত।
প্রাপ্ত হিসাবে দেখা গেছে, নবম সংসদের প্রথম ২৪১ দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে সময় অপচয় হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ মিনিট। গড়ে প্রতিটি কার্যদিবসে অপচয় সাড়ে ৩২ মিনিট। এর মধ্যে কোরাম না হওয়ায় সব দিনের শুরুতেই স্পিকারের পক্ষে নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন কক্ষে আসা সম্ভব হয়নি। আবার মাগরিব বা আসরের নামাজের জন্য ২০ বা ৩০ মিনিটের বিরতি (মুলতবি) দিলেও সে বিরতি ৪০ বা ৫০ মিনিটও পেরিয়েছে। নামাজের বিরতির পর এক ঘণ্টার মধ্যে কোরাম পূরণ হয়নি_ এমন দিনও পাওয়া গেছে তিন বছরের সংসদে। নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে না পারা, নামাজের বিরতিসহ অন্যান্য বিরতি মিলিয়ে গড়ে একেকটি বিরতিতে সংসদের সময় অপচয় দাঁড়িয়েছে গড়ে ১৭ দশমিক ২০ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় নষ্টের কারণে অর্থ অপচয়ের হিসাবও অনেক বড় হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে অধিবেশন চলাকালে জাতীয় সংসদের সরাসরি ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক খরচের পরিমাণ মিনিটে ৩০ হাজার টাকা। তাতে তিন বছরে ৮ হাজার মিনিট কোনো কাজে না লাগায় অপচয়ের হিসাব দাঁড়ায় আড়াই লাখ কোটি টাকায়। এদিকে সময় অপচয়ের হিসাবকে এমনভাবে টাকায় পরিমাপ করার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন অনেকে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আবদুস শহীদ বলেন, এভাবে ব্যাখ্যা করলে অন্য অনেক ক্ষেত্রে আরও লাখ লাখ কোটি টাকা অপচয়ের হিসাব আনা যাবে। সংসদ যে নির্ধারিত সময় মেনে শুরু হতে পারেনি_ এ বিষয়টি অবশ্য অস্বীকার করেননি তিনি।
নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৩৯ কার্যদিবসেই ১ হাজার ৫৪৬ মিনিট অপচয়ের হিসাব মিলেছে। সবচেয়ে বেশি অপচয় হয়েছে চতুর্থ অধিবেশনে। সেটি ছিল এই সংসদের দ্বিতীয় বছরের প্রথম অধিবেশন। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলা ৩৯ কার্যদিবসের অধিবেশনে ১ হাজার ৬২২ মিনিট অপচয় হয়। পঞ্চম অধিবেশনে সময় অপচয় হয়েছে ১ হাজার ১৪৪ মিনিট। এ তিনটি অধিবেশনের মধ্যে দুটিই বছরের প্রথম অধিবেশন। অন্যটি বাজেট অধিবেশন। সাধারণত এ অধিবেশনগুলো দীর্ঘ হয়। তাতে সাংসদদের উপস্থিতি বা সংসদ কার্যে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও অনেক ক্ষেত্রে একঘেয়ে এবং নিয়ম রক্ষায় পরিণত হয়।
এর বাইরে নানা কারণে দ্বিতীয় অধিবেশনে ৮৯৩, নবম অধিবেশনে ৭৮৭, অষ্টম অধিবেশনে ৭৫২, তৃতীয় অধিবেশনে ৪৫৮, ষষ্ঠ অধিবেশনে ৪১৯, সপ্তম অধিবেশনে ২১৫ এবং দশম অধিবেশনে ৩১ মিনিট অপচয় হয়।
দেখা গেছে, অধিকাংশ সময় মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন কক্ষে ফিরতে গড়িমসি করেন সাংসদরা। মাগরিবের নির্ধারিত বিরতি বাদ দিয়ে এখানে অপচয় ৩ হাজার ২৭৬ মিনিট। আর দিনের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব বা দু'বেলার অধিবেশনের ক্ষেত্রে বিকেলের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব করায় অপচয় ৩ হাজার ১৩২ মিনিট। অন্যদিকে আসরের নামাজের ২০ মিনিটের নির্ধারিত বিরতির বাইরেও সাংসদদের বিলম্বে অপচয় আরও ১ হাজার ৪৯৯ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সারে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ৭ জুন সংসদের অধিবেশন বসার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৪টা। আগের দিন সময় নির্ধারণ হলেও ৭ জুন দুপুরের পর স্পিকার নিজ ক্ষমতাবলে সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পুনর্নির্ধারণ করেন। পুনর্নির্ধারিত সময়েও সাংসদরা আসতে পারেননি। অবশ্য এক্ষেত্রে সময় অপচয়ের হিসাব ধরা হয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকেই। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় ৪৫ মিনিট বিলম্বে। প্রথম বছরের ২৮ জুন এক দিনে ৭০ মিনিট নষ্ট হয়। একই বছরের ২ ও ৫ মার্চ অপচয় হয় ৬৬ মিনিট করে।
গত বছর ৩ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর সামনের সারির ২৯ আসনের কোনো সাংসদই উপস্থিত ছিলেন না। ২০০৯ সালের ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় সংসদ বসার সময় নির্ধারিত হলেও তা ৫টা ২৯ মিনিটে শুরু হয়। ২০১১ সালের ১৪ মার্চ কোনো সময় অপচয় ছাড়াই দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সংসদের কার্যক্রম চলে।
তারও আগে নবম সংসদের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় সময় নষ্টের পর্ব। সংসদের নথি অনুসারে সেদিন ৬৭ মিনিট নষ্ট হয়। বিকেল ৩টার অধিবেশন বসে ১৬ মিনিট বিলম্বে। অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর নতুন স্পিকারের শপথের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ মিনিট। দেখা গেল ৭১ মিনিট পরও কোরাম পূরণ হচ্ছে না। মাগরিবের নামাজের ২০ মিনিটের বিরতিও সেদিন প্রলম্বিত হয়েছিল। মাগরিবের নামাজের দীর্ঘায়িত বিরতি চলে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন নির্ধারিত ২০ মিনিট পরও ৪০ মিনিট অনির্ধারিত বিরতি চালিয়ে নেন সাংসদরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদের বাজেট যখন ৪৫ কোটি টাকা, তখনই মিনিটে ১৯ হাজার টাকা খরচের হিসাব ছিল। এখন এ বাজেট কয়েকগুণ বাড়ায় প্রতি মিনিটের খরচ ৩০ হাজার টাকা। তা ছাড়া মিনিটপ্রতি খরচের হিসাবে কেবল সংসদের খরচের হিসাব হয় না। প্রত্যেক সাংসদের বেতন-ভাতা, মন্ত্রীদের স্টাফ-গাড়ি-অফিসসহ সব খরচ যুক্ত হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গণপূর্ত, টেলিফোন, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেলসহ সব খরচ যোগ করে প্রতি মিনিটের হিসাব নির্ধারিত হয়। সে কারণে সময় অপচয়ের হিসাব বড় হলে টাকার অঙ্ক আরও বড় মনে হয়। এর আগে এ সংসদের প্রথম বছরের ওপর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এমন হিসাব প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল সংসদ ও সরকার।
সংসদের বেশ ক'জন সিনিয়র স্টাফ বলেন, রুলস অব প্রসিডিউরে এ বিষয়ে কিছু পরিবর্তন এনে সময় অপচয় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, সময় অপচয় অবশ্যই গর্হিত কাজ। তিনি বলেন, যেটুকু সময় ব্যবহার হচ্ছে বলে দেখানো হয় তাও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।

সময় অপচয় আট হাজার মিনিট

সজল জাহিদ
গত তিন বছরে মাত্র তিন দিন নির্ধারিত সময়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু করা গেছে। দিনের কার্যক্রমে একটি মিনিটও অপচয় হয়নি_ এমন কার্যদিবস আছে মাত্র একটি। এর মধ্যে এমন একটি দিনও আছে যেদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ কার্যক্রমে ঢুকতে পেরেছেন স্পিকার। এ ছাড়া তিন বছরে সংসদের ২৫৪ কার্যদিবসের চিত্র
অভিন্ন। কোনো কারণে সংসদ কার্যক্রম কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি করা হলেও সেটি পেঁৗছে গেছে দীর্ঘক্ষণে। কোনো কোনো দিন সময় অপচয়ের হিসাব দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত গেছে।
নবম সংসদের প্রথম তিন বছরের ১১টি অধিবেশনের মধ্যে যে ১০টি অধিবেশনের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সার প্রকাশিত হয়েছে সেখান থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। তাতে ১০ অধিবেশনের ২৪১ দিনের হিসাবই আমলে নেওয়া সম্ভব। একাদশ অধিবেশনের সংক্ষিপ্ত সার এখনও অপ্রকাশিত।
প্রাপ্ত হিসাবে দেখা গেছে, নবম সংসদের প্রথম ২৪১ দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে সময় অপচয় হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ মিনিট। গড়ে প্রতিটি কার্যদিবসে অপচয় সাড়ে ৩২ মিনিট। এর মধ্যে কোরাম না হওয়ায় সব দিনের শুরুতেই স্পিকারের পক্ষে নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন কক্ষে আসা সম্ভব হয়নি। আবার মাগরিব বা আসরের নামাজের জন্য ২০ বা ৩০ মিনিটের বিরতি (মুলতবি) দিলেও সে বিরতি ৪০ বা ৫০ মিনিটও পেরিয়েছে। নামাজের বিরতির পর এক ঘণ্টার মধ্যে কোরাম পূরণ হয়নি_ এমন দিনও পাওয়া গেছে তিন বছরের সংসদে। নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে না পারা, নামাজের বিরতিসহ অন্যান্য বিরতি মিলিয়ে গড়ে একেকটি বিরতিতে সংসদের সময় অপচয় দাঁড়িয়েছে গড়ে ১৭ দশমিক ২০ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় নষ্টের কারণে অর্থ অপচয়ের হিসাবও অনেক বড় হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে অধিবেশন চলাকালে জাতীয় সংসদের সরাসরি ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক খরচের পরিমাণ মিনিটে ৩০ হাজার টাকা। তাতে তিন বছরে ৮ হাজার মিনিট কোনো কাজে না লাগায় অপচয়ের হিসাব দাঁড়ায় আড়াই লাখ কোটি টাকায়। এদিকে সময় অপচয়ের হিসাবকে এমনভাবে টাকায় পরিমাপ করার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন অনেকে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আবদুস শহীদ বলেন, এভাবে ব্যাখ্যা করলে অন্য অনেক ক্ষেত্রে আরও লাখ লাখ কোটি টাকা অপচয়ের হিসাব আনা যাবে। সংসদ যে নির্ধারিত সময় মেনে শুরু হতে পারেনি_ এ বিষয়টি অবশ্য অস্বীকার করেননি তিনি।
নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৩৯ কার্যদিবসেই ১ হাজার ৫৪৬ মিনিট অপচয়ের হিসাব মিলেছে। সবচেয়ে বেশি অপচয় হয়েছে চতুর্থ অধিবেশনে। সেটি ছিল এই সংসদের দ্বিতীয় বছরের প্রথম অধিবেশন। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলা ৩৯ কার্যদিবসের অধিবেশনে ১ হাজার ৬২২ মিনিট অপচয় হয়। পঞ্চম অধিবেশনে সময় অপচয় হয়েছে ১ হাজার ১৪৪ মিনিট। এ তিনটি অধিবেশনের মধ্যে দুটিই বছরের প্রথম অধিবেশন। অন্যটি বাজেট অধিবেশন। সাধারণত এ অধিবেশনগুলো দীর্ঘ হয়। তাতে সাংসদদের উপস্থিতি বা সংসদ কার্যে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও অনেক ক্ষেত্রে একঘেয়ে এবং নিয়ম রক্ষায় পরিণত হয়।
এর বাইরে নানা কারণে দ্বিতীয় অধিবেশনে ৮৯৩, নবম অধিবেশনে ৭৮৭, অষ্টম অধিবেশনে ৭৫২, তৃতীয় অধিবেশনে ৪৫৮, ষষ্ঠ অধিবেশনে ৪১৯, সপ্তম অধিবেশনে ২১৫ এবং দশম অধিবেশনে ৩১ মিনিট অপচয় হয়।
দেখা গেছে, অধিকাংশ সময় মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন কক্ষে ফিরতে গড়িমসি করেন সাংসদরা। মাগরিবের নির্ধারিত বিরতি বাদ দিয়ে এখানে অপচয় ৩ হাজার ২৭৬ মিনিট। আর দিনের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব বা দু'বেলার অধিবেশনের ক্ষেত্রে বিকেলের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব করায় অপচয় ৩ হাজার ১৩২ মিনিট। অন্যদিকে আসরের নামাজের ২০ মিনিটের নির্ধারিত বিরতির বাইরেও সাংসদদের বিলম্বে অপচয় আরও ১ হাজার ৪৯৯ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সারে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ৭ জুন সংসদের অধিবেশন বসার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৪টা। আগের দিন সময় নির্ধারণ হলেও ৭ জুন দুপুরের পর স্পিকার নিজ ক্ষমতাবলে সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পুনর্নির্ধারণ করেন। পুনর্নির্ধারিত সময়েও সাংসদরা আসতে পারেননি। অবশ্য এক্ষেত্রে সময় অপচয়ের হিসাব ধরা হয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকেই। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় ৪৫ মিনিট বিলম্বে। প্রথম বছরের ২৮ জুন এক দিনে ৭০ মিনিট নষ্ট হয়। একই বছরের ২ ও ৫ মার্চ অপচয় হয় ৬৬ মিনিট করে।
গত বছর ৩ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর সামনের সারির ২৯ আসনের কোনো সাংসদই উপস্থিত ছিলেন না। ২০০৯ সালের ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় সংসদ বসার সময় নির্ধারিত হলেও তা ৫টা ২৯ মিনিটে শুরু হয়। ২০১১ সালের ১৪ মার্চ কোনো সময় অপচয় ছাড়াই দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সংসদের কার্যক্রম চলে।
তারও আগে নবম সংসদের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় সময় নষ্টের পর্ব। সংসদের নথি অনুসারে সেদিন ৬৭ মিনিট নষ্ট হয়। বিকেল ৩টার অধিবেশন বসে ১৬ মিনিট বিলম্বে। অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর নতুন স্পিকারের শপথের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ মিনিট। দেখা গেল ৭১ মিনিট পরও কোরাম পূরণ হচ্ছে না। মাগরিবের নামাজের ২০ মিনিটের বিরতিও সেদিন প্রলম্বিত হয়েছিল। মাগরিবের নামাজের দীর্ঘায়িত বিরতি চলে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন নির্ধারিত ২০ মিনিট পরও ৪০ মিনিট অনির্ধারিত বিরতি চালিয়ে নেন সাংসদরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদের বাজেট যখন ৪৫ কোটি টাকা, তখনই মিনিটে ১৯ হাজার টাকা খরচের হিসাব ছিল। এখন এ বাজেট কয়েকগুণ বাড়ায় প্রতি মিনিটের খরচ ৩০ হাজার টাকা। তা ছাড়া মিনিটপ্রতি খরচের হিসাবে কেবল সংসদের খরচের হিসাব হয় না। প্রত্যেক সাংসদের বেতন-ভাতা, মন্ত্রীদের স্টাফ-গাড়ি-অফিসসহ সব খরচ যুক্ত হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গণপূর্ত, টেলিফোন, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেলসহ সব খরচ যোগ করে প্রতি মিনিটের হিসাব নির্ধারিত হয়। সে কারণে সময় অপচয়ের হিসাব বড় হলে টাকার অঙ্ক আরও বড় মনে হয়। এর আগে এ সংসদের প্রথম বছরের ওপর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এমন হিসাব প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল সংসদ ও সরকার।
সংসদের বেশ ক'জন সিনিয়র স্টাফ বলেন, রুলস অব প্রসিডিউরে এ বিষয়ে কিছু পরিবর্তন এনে সময় অপচয় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, সময় অপচয় অবশ্যই গর্হিত কাজ। তিনি বলেন, যেটুকু সময় ব্যবহার হচ্ছে বলে দেখানো হয় তাও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।

সময় অপচয় আট হাজার মিনিট

সজল জাহিদ
গত তিন বছরে মাত্র তিন দিন নির্ধারিত সময়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু করা গেছে। দিনের কার্যক্রমে একটি মিনিটও অপচয় হয়নি_ এমন কার্যদিবস আছে মাত্র একটি। এর মধ্যে এমন একটি দিনও আছে যেদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ কার্যক্রমে ঢুকতে পেরেছেন স্পিকার। এ ছাড়া তিন বছরে সংসদের ২৫৪ কার্যদিবসের চিত্র
অভিন্ন। কোনো কারণে সংসদ কার্যক্রম কিছুক্ষণের জন্য মুলতবি করা হলেও সেটি পেঁৗছে গেছে দীর্ঘক্ষণে। কোনো কোনো দিন সময় অপচয়ের হিসাব দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত গেছে।
নবম সংসদের প্রথম তিন বছরের ১১টি অধিবেশনের মধ্যে যে ১০টি অধিবেশনের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সার প্রকাশিত হয়েছে সেখান থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। তাতে ১০ অধিবেশনের ২৪১ দিনের হিসাবই আমলে নেওয়া সম্ভব। একাদশ অধিবেশনের সংক্ষিপ্ত সার এখনও অপ্রকাশিত।
প্রাপ্ত হিসাবে দেখা গেছে, নবম সংসদের প্রথম ২৪১ দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে সময় অপচয় হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ মিনিট। গড়ে প্রতিটি কার্যদিবসে অপচয় সাড়ে ৩২ মিনিট। এর মধ্যে কোরাম না হওয়ায় সব দিনের শুরুতেই স্পিকারের পক্ষে নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন কক্ষে আসা সম্ভব হয়নি। আবার মাগরিব বা আসরের নামাজের জন্য ২০ বা ৩০ মিনিটের বিরতি (মুলতবি) দিলেও সে বিরতি ৪০ বা ৫০ মিনিটও পেরিয়েছে। নামাজের বিরতির পর এক ঘণ্টার মধ্যে কোরাম পূরণ হয়নি_ এমন দিনও পাওয়া গেছে তিন বছরের সংসদে। নির্ধারিত সময়ে শুরু করতে না পারা, নামাজের বিরতিসহ অন্যান্য বিরতি মিলিয়ে গড়ে একেকটি বিরতিতে সংসদের সময় অপচয় দাঁড়িয়েছে গড়ে ১৭ দশমিক ২০ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় নষ্টের কারণে অর্থ অপচয়ের হিসাবও অনেক বড় হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে অধিবেশন চলাকালে জাতীয় সংসদের সরাসরি ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক খরচের পরিমাণ মিনিটে ৩০ হাজার টাকা। তাতে তিন বছরে ৮ হাজার মিনিট কোনো কাজে না লাগায় অপচয়ের হিসাব দাঁড়ায় আড়াই লাখ কোটি টাকায়। এদিকে সময় অপচয়ের হিসাবকে এমনভাবে টাকায় পরিমাপ করার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন অনেকে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আবদুস শহীদ বলেন, এভাবে ব্যাখ্যা করলে অন্য অনেক ক্ষেত্রে আরও লাখ লাখ কোটি টাকা অপচয়ের হিসাব আনা যাবে। সংসদ যে নির্ধারিত সময় মেনে শুরু হতে পারেনি_ এ বিষয়টি অবশ্য অস্বীকার করেননি তিনি।
নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৩৯ কার্যদিবসেই ১ হাজার ৫৪৬ মিনিট অপচয়ের হিসাব মিলেছে। সবচেয়ে বেশি অপচয় হয়েছে চতুর্থ অধিবেশনে। সেটি ছিল এই সংসদের দ্বিতীয় বছরের প্রথম অধিবেশন। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলা ৩৯ কার্যদিবসের অধিবেশনে ১ হাজার ৬২২ মিনিট অপচয় হয়। পঞ্চম অধিবেশনে সময় অপচয় হয়েছে ১ হাজার ১৪৪ মিনিট। এ তিনটি অধিবেশনের মধ্যে দুটিই বছরের প্রথম অধিবেশন। অন্যটি বাজেট অধিবেশন। সাধারণত এ অধিবেশনগুলো দীর্ঘ হয়। তাতে সাংসদদের উপস্থিতি বা সংসদ কার্যে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও অনেক ক্ষেত্রে একঘেয়ে এবং নিয়ম রক্ষায় পরিণত হয়।
এর বাইরে নানা কারণে দ্বিতীয় অধিবেশনে ৮৯৩, নবম অধিবেশনে ৭৮৭, অষ্টম অধিবেশনে ৭৫২, তৃতীয় অধিবেশনে ৪৫৮, ষষ্ঠ অধিবেশনে ৪১৯, সপ্তম অধিবেশনে ২১৫ এবং দশম অধিবেশনে ৩১ মিনিট অপচয় হয়।
দেখা গেছে, অধিকাংশ সময় মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন কক্ষে ফিরতে গড়িমসি করেন সাংসদরা। মাগরিবের নির্ধারিত বিরতি বাদ দিয়ে এখানে অপচয় ৩ হাজার ২৭৬ মিনিট। আর দিনের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব বা দু'বেলার অধিবেশনের ক্ষেত্রে বিকেলের কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব করায় অপচয় ৩ হাজার ১৩২ মিনিট। অন্যদিকে আসরের নামাজের ২০ মিনিটের নির্ধারিত বিরতির বাইরেও সাংসদদের বিলম্বে অপচয় আরও ১ হাজার ৪৯৯ মিনিট।
সংসদ কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত সারে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ৭ জুন সংসদের অধিবেশন বসার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৪টা। আগের দিন সময় নির্ধারণ হলেও ৭ জুন দুপুরের পর স্পিকার নিজ ক্ষমতাবলে সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পুনর্নির্ধারণ করেন। পুনর্নির্ধারিত সময়েও সাংসদরা আসতে পারেননি। অবশ্য এক্ষেত্রে সময় অপচয়ের হিসাব ধরা হয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকেই। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় ৪৫ মিনিট বিলম্বে। প্রথম বছরের ২৮ জুন এক দিনে ৭০ মিনিট নষ্ট হয়। একই বছরের ২ ও ৫ মার্চ অপচয় হয় ৬৬ মিনিট করে।
গত বছর ৩ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর সামনের সারির ২৯ আসনের কোনো সাংসদই উপস্থিত ছিলেন না। ২০০৯ সালের ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় সংসদ বসার সময় নির্ধারিত হলেও তা ৫টা ২৯ মিনিটে শুরু হয়। ২০১১ সালের ১৪ মার্চ কোনো সময় অপচয় ছাড়াই দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সংসদের কার্যক্রম চলে।
তারও আগে নবম সংসদের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় সময় নষ্টের পর্ব। সংসদের নথি অনুসারে সেদিন ৬৭ মিনিট নষ্ট হয়। বিকেল ৩টার অধিবেশন বসে ১৬ মিনিট বিলম্বে। অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর নতুন স্পিকারের শপথের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩০ মিনিট। দেখা গেল ৭১ মিনিট পরও কোরাম পূরণ হচ্ছে না। মাগরিবের নামাজের ২০ মিনিটের বিরতিও সেদিন প্রলম্বিত হয়েছিল। মাগরিবের নামাজের দীর্ঘায়িত বিরতি চলে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন নির্ধারিত ২০ মিনিট পরও ৪০ মিনিট অনির্ধারিত বিরতি চালিয়ে নেন সাংসদরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদের বাজেট যখন ৪৫ কোটি টাকা, তখনই মিনিটে ১৯ হাজার টাকা খরচের হিসাব ছিল। এখন এ বাজেট কয়েকগুণ বাড়ায় প্রতি মিনিটের খরচ ৩০ হাজার টাকা। তা ছাড়া মিনিটপ্রতি খরচের হিসাবে কেবল সংসদের খরচের হিসাব হয় না। প্রত্যেক সাংসদের বেতন-ভাতা, মন্ত্রীদের স্টাফ-গাড়ি-অফিসসহ সব খরচ যুক্ত হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গণপূর্ত, টেলিফোন, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেলসহ সব খরচ যোগ করে প্রতি মিনিটের হিসাব নির্ধারিত হয়। সে কারণে সময় অপচয়ের হিসাব বড় হলে টাকার অঙ্ক আরও বড় মনে হয়। এর আগে এ সংসদের প্রথম বছরের ওপর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এমন হিসাব প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছিল সংসদ ও সরকার।
সংসদের বেশ ক'জন সিনিয়র স্টাফ বলেন, রুলস অব প্রসিডিউরে এ বিষয়ে কিছু পরিবর্তন এনে সময় অপচয় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, সময় অপচয় অবশ্যই গর্হিত কাজ। তিনি বলেন, যেটুকু সময় ব্যবহার হচ্ছে বলে দেখানো হয় তাও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।

টার্গেট ছিল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা

ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ভয়ঙ্কর ছক
পিনাকি দাসগুপ্ত/সাহাদাত হোসেন পরশ
সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অভ্যুত্থানের প্রধান টার্গেট ছিল রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রধান ব্যক্তিসহ ১৩ নাগরিক। তাদের হত্যার মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থান সফল করার নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন হিট লিস্টের এক নম্বরে। রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান ছিলেন তিন নম্বরে। হত্যা পরিকল্পনার দু'নম্বরে ছিলেন এক ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা। হিট লিস্টে থাকা বাকি ১০ জনও সেনা কর্মকর্তা। সেনাবাহিনীর একটি নির্ভরশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সূত্র জানায়, পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ ১১ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করার ছক তৈরি করা হয়। যেসব সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করার ছক তৈরি করা হয়েছিল তারা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে তারা তালিকা তৈরি করে। কোন কর্মকর্তাকে কীভাবে হত্যা করা হবে_ সে ছকও বানানো হয়। কিছু কর্মকর্তাকে জিম্মি করার পরিকল্পনাও ছিল।
এদিকে সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত খুনিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর শরিফুল ইসলাম ডালিমের (বরখাস্ত) সম্পৃক্ততার বিষয়ে কিছু তথ্য এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। ডালিম মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনা সরকার সম্পর্কে উস্কানিমূলক লেখা সংবলিত একটি ব্লগ খোলেন।
এদিকে পরিকল্পনাকারী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পর্ক খতিয়ে দেখতে একটি টিম কাজ করছে। ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যেসব প্রবাসী নাগরিকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে। এমনকি সন্দেহভাজন প্রবাসী নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত কাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে_ তা বের করতে দুটি বিশেষ টিম কাজ করছে। সন্দেহভাজন কয়েক বেসামরিক নাগরিকের গতিবিধির ওপর নজরদারি রাখা হয়েছে। গত কয়েক মাসে তারা কোন কোন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন, তার তালিকা বের করে যাচাই-বাছাই চলছে। পরিকল্পনায় জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে
দেশি-বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। এরপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব ঘটনায় জড়িত দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ল্যাপটপসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত। ল্যাপটপে পাওয়া পুরো পরিকল্পনা।
একটি নির্ভরশীল সূত্র জানায়, পরিকল্পনায় জড়িত সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) এহসান ইউসুফের ল্যাপটপ থেকে এরই মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার মতো পর্যাপ্ত তথ্য। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। হিযবুত তাহ্রীর ও হরকাতুল জিহাদসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সন্দেহভাজন সেনা কর্মকর্তাদের যোগসূত্রের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মাওলানা ইয়াহিয়ার সঙ্গে কোনো ধর্মান্ধ সেনা কর্মকর্তার যোগাযোগ ছিল কি-না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কিছু সদস্য অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালান। এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক। কিছু প্রবাসী নাগরিক সম্প্রতি বিভিন্ন নামে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সারাবিশ্বে প্রচার চালান। কিছু সংগঠনের ব্যানারে এসব প্রচার চালানো হয়। এসব সংগঠনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ১৩ ডিসেম্বর সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা পরিকল্পনার তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এরপর অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থানচেষ্টা তদন্তে ২৮ ডিসেম্বর একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জানুয়ারি সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সরকার উৎখাতের অপচেষ্টা দেশবাসীকে জানানো হয়।
মেজর ডালিমের উস্কানি : একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর ডালিম ওয়েবসাইটে নানা উস্কানিমূলক লেখা পোস্ট করেন। এসব লেখায় মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত এবং বঙ্গবন্ধুর সরকারকে চরমভাবে কটাক্ষ করা হয়।
গণভবনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকেন্দ্রিক পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে ৮০ সদস্যবিশিষ্ট আর্মড ব্যাটালিয়ন পুলিশ; যারা প্রতি রাতে ভারী অস্ত্র নিয়ে গণভবনের আশপাশের এলাকায় নিযুক্ত থাকে। পুলিশ বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে কিছুদিন ধরে রাত ১১টার পর গণভবনের পাশের সড়ক সাধারণ নাগরিকের চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে গণভবনকেন্দ্রিক বাড়তি নজরদারি থাকে রাত ১০টার পর থেকেই। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের পর ১০ জানুয়ারি থেকে গণভবনকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইমাম হোসেন সমকালকে বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে গণভবনকেন্দ্রিক পুলিশের নিরাপত্তা শক্তিশালী করা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রস্তুত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গণভবনকেন্দ্রিক তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে_ প্রথমত, গণভবনের নিকটতম পুলিশি নিরাপত্তা, মধ্যদূরবর্তী নিরাপত্তা ও দূরবর্তী নিরাপত্তা। দূরবর্তী নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রতি রাতে পুলিশের বিশেষ তিনটি টিম ভারী অস্ত্রসহ তিনটি এলাকায় টহলে থাকে। এসব এলাকা হলো_ বিজয় সরণি মোড়, আসাদ গেট ও শ্যামলী শিশুমেলা। রাত ১০টার পর তিন প্লাটুন পুলিশ ভাগ হয়ে গোটা এলাকায় অনবরত রাউন্ড দিতে থাকে। এ ছাড়া গণভবনের আশপাশের এলাকায়ও থাকে পুলিশের টহল। গণভবন লাগোয়া চন্দ্রিমা উদ্যানেও বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গণভবনকেন্দ্রিক পুলিশ ফোর্স দ্বিগুণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন এসএসএফ ও পিজিআর সদস্যরা। ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানচেষ্টার পর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের সুপারিশ করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারক করছেন একজন উপকমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন একজন সহকারী কমিশনার (এসি) এবং একজন পরিদর্শক। তাদের সঙ্গে থাকছেন ৬০ পুলিশ সদস্য।

সরকার উৎখাতের চেষ্টা ১১ সেনা কর্মকর্তাকে চিহ্নিত, জিজ্ঞাসাবাদ

সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও সরকার উৎখাতের ব্যর্থ চেষ্টার ঘটনায় গতকাল রোববার পর্যন্ত ১১ জন পদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন মেজর জেনারেল, একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, দুজন লে. কর্নেল, ছয়জন মেজর ও ক্যাপ্টেন পদের একজন কর্মকর্তা।
দায়িত্বশীল সেনাসূত্র জানায়, ছয় সদস্যের তদন্ত আদালত এসব কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদের একজন কর্মকর্তাকে প্রধান করে গত ২৮ ডিসেম্বর সেনাসদর এ তদন্ত আদালত গঠন করে।
সেনাসূত্র জানায়, সংযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন কুমিল্লার ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার (জিওসি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাভারে নবম পদাতিক ডিভিশনের ৭১ ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তারিকুল আলম, ঢাকা সেনানিবাসের লে. কর্নেল সারোয়ার ও লে. কর্নেল জগলুল হক। এঁদের এবং তানজীব নামের একজন ক্যাপ্টেনকে ঢাকা সেনানিবাসের লগ এরিয়ায় সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ব্রিগেডে মেজর পদের দুজন ও সিগন্যালস ব্রিগেডে একজন মেজর সংযুক্ত আছেন। ঢাকার বাইরে রংপুর, কুমিল্লা ও সাভারে একজন করে মেজর পদের কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়।
ফোনালাপের সূত্র ধরে এসব কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ওই সূত্র আভাস দিয়েছে।
১৯ জানুয়ারি সেনা সদর দপ্তরের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কিছু সদস্য দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর এ পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। বলা হয়, সেনাবাহিনীর মধ্যম সারির কয়েকজন কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত। তাঁদের সংখ্যা ১৪ থেকে ১৬ জনের বেশি নয়।
ঢাকায় সেনাসূত্র জানায়, এ ঘটনা তদন্তে শুরুতেই কর্মকর্তারা মেজর জিয়াউল হকের ব্যাপারে তথ্য পান। এরপর এহসান ইউসুফ ও ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাঁদের ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ৮ জানুয়ারি সাভারের ব্রিগেড কমান্ডার তারিকুল আলমকে লগ এরিয়ায় সংযুক্ত করা হয়। এর চার দিন পর ১২ জানুয়ারি সংযুক্ত করা হয় কুমিল্লার জিওসি কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন তানজীবকে। অন্য দুই লে. কর্নেলকে ১৫ জানুয়ারি সংযুক্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সেনাসূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে চিহ্নিত ইশরাক আহমেদ কুমিল্লার জিওসির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে জিওসি এ তথ্য কোনো কর্তৃপক্ষকে জানাননি। তদন্ত আদালত এখনো কামরুজ্জামানের জবানবন্দি নেননি বলে জানা গেছে।
ওই সূত্রমতে, ইশরাক ৭১ ব্রিগেডের কমান্ডার তারিকুল আলমের সঙ্গেও দেখা করেন। ইশরাক নিজে ব্রিগেড কমান্ডারের কার্যালয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে তারিকুল আলম এ তথ্য স্বীকার করেন। তারিকুল বলেন, ইশরাকের সুইডেনপ্রবাসী ভাই ইতরাক তাঁর পরিচিত। সেই সূত্র ধরে ইশরাক তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। ইশরাক একটি উপহার নিয়ে তাঁর কাছে আসেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপহার পাওয়ার পর ইশরাকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারিকুল। তিনি ফোনে এসএমএস ও ই-মেইল করেন। এসব এসএমএস ও ই-মেইল তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে।
অভ্যুত্থান ছক: গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ও সরকার উৎখাতের ব্যর্থ চেষ্টার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রথমে সেনাপ্রধানসহ চারজন পদস্থ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁরা একটি কল্পিত সরকারব্যবস্থার ছক তৈরি করেন। ছক অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের মন্ত্রী পদে বসানো হতো। গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা এহসান ইউসুফের ল্যাপটপে এসব পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে।
উগ্রপন্থীর সঙ্গে যোগাযোগ: সূত্রটি জানায়, পলাতক মেজর জিয়াউলের সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রপন্থী সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। এ মাসের শুরুতে সেনানিবাস এলাকায় হিযবুত তাহ্রীর একটি প্রচারপত্র বিতরণ করে। এতে শেখ হাসিনার সরকারকে অপসারণের আহ্বান জানানো হয়। ১৫ জানুয়ারি হিযবুত একই বিষয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাঁটায়। জিয়াউল ছাড়াও এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া লে. কর্নেল হাসিনুর রহমানসহ আরও তিনজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে হিযবুত তাহ্রীরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
র‌্যাব জানায়, বিদেশে যাওয়ার সময় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গত ২৮ জুলাই হিযবুতের নেতা ও ব্যবসায়ী মাহমুদুল বারীকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি বলেন, চাকরিরত দুজন লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান ও লে. কর্নেল যায়ীদ এবং অবসরপ্রাপ্ত একজন লে. কর্নেল ও একজন মেজরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। হাসিনুরের সঙ্গে তিনি গুলশানের একটি হোটেলে বৈঠক করেন। এ ছাড়া জঙ্গিনেতা মওলানা ইয়াহিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাসিনুরের নাম বলেছিলেন বলে র‌্যাব গোয়েন্দাপ্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান প্রথম আলোকে জানান।
তবে হাসিনুরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী শামীমা আখতার। গত শনিবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হরকাতুল জিহাদের নেতা মওলানা ইয়াহিয়াকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করেন হাসিনুর। তিনি অনেক জঙ্গিনেতাকে ধরতে সক্ষম হন। তিনি জঙ্গি দমন করেছেন। লে. কর্নেল যায়ীদের ছোট ভাই আ. আ. জাবীদ বলেন, তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কখনো কোনো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল না। আইএসপিআরের এ-সংক্রান্ত সংবাদ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

পাঠকের মন্তব্য



সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন

mohammad rahman

mohammad rahman

২০১২.০১.২৩ ০৩:০২
বাংলাদেশের জন্যে বিভক্তি নয় । দরকার রাজ ৈনতক সমঝোতা । সামাজিক ন্যায় বিচার। আইনের শাসন। গ নমুখী ইস্যু ৈতরি করে সমমিলিত চেষটায় সুখি সমাজ গঠন। রাজ ৈতিক স্বার্থ সিদধীতে যত বেশি তৎপরতা চলবে সমাজও তত বিভক্ত হবে । অপশাক্তি সমাজের বিভক্তি আর অশান্তিকে পুজি করে স্বার্থ সিদধির চেষটা চালায় ! অপশক্তি দমনে সর্বো ৎকৃষট পনথা হল অপশক্তি কে সুযোগ না দেয়া

Hafizur Rahman

Hafizur Rahman

২০১২.০১.২৩ ০৩:০৫
It is very sensetive issue. I think this types of consperacy may be started a long time ago. The Army intelligence might have found their plan in initial stage. Our army, RAP and police intelligence group should be more active and efficient. In BDR issue they failed to find for that we had to sacrify 47 livies of army officers. Army officers were our assets but we lost we connot cover it at all.

রহমান

রহমান

২০১২.০১.২৩ ০৩:২২
শেখ হাসিনার সরকারকে যারা উত্খাত করতে চেয়েছে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।

MUHAMMAD

MUHAMMAD

২০১২.০১.২৩ ০৩:৫২
সেনাবাহিনীকে দলীয় করনের জন্যই এ কাহিনী বানানো হয়েছে।

daud rahman

daud rahman

২০১২.০১.২৩ ০৫:২৬
থলের বিড়াল বের হচ্ছে! সুষ্টু এবং নিরপেক্ষ তদন্ত চাই .... and keep us posted!

mohammad rahman

mohammad rahman

২০১২.০১.২৩ ০৬:১৬
বাংলাদেশের জন্যে দরকার গনমুখী ইস্যু ৈতরি করে সমমিলিত চেষটায় সুখি সমাজ গঠন। রাজ ৈতিক স্বার্থ সিদধীতে যত বেশি তৎপরতা চালান হবে সমাজ ততই বিভক্ত হবে । অপশাক্তি সমাজের বিভক্তি অশান্তিকে পুজি করে স্বার্থ সিদধির চেষটা চালায় !

Sheikh Rafiq

Sheikh Rafiq

২০১২.০১.২৩ ০৯:০১
Big man behind, please find out ???

nurul absar hussain

nurul absar hussain

২০১২.০১.২৩ ০৯:৩৪
সেনা বাহিনীকে অবিশ্বাস করার কোনো কারণ নাই. আমরা পুরা ব্যাপারটা জানিতে চাই. এইটা জাতির জন্য আর গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ বিপদ. অপরাধী যেই হৌকানা কেন আইন যেন সবার জন্য প্রয়ুগ হই.

Md. Imran Ullah

Md. Imran Ullah

২০১২.০১.২৩ ০৯:৫৯
সেনাবাহিনী বাংলাদেশের গর্ব। কিছু কুচক্রী সবসময়ই চেয়েছে সেখানে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে। যেহেতু, ষঢ়যন্ত্র ফাস হয়ে গেছে এখন অপরাধীদের মিডিয়ার সামনে উপস্থিত করে জনগণকে আসল ঘটনা জানানো উচিত এতে জনগণকে যারা বিভ্রান্ত করতে চাইছে তাদের মুখোশ ও খুলে যাবে।

MD. ZULHASH UDDIN

MD. ZULHASH UDDIN

২০১২.০১.২৩ ১০:০৫
I THINK ITS A DRAMA BY GOVERMENT..........

Mohammad

Mohammad

২০১২.০১.২৩ ১০:৩১
সরকার এতদিন পর হৈচৈ শুরু করল কেন, ঘতনা যদি আরও আগে সঙ্ঘথিত হয়ে থাকে ??

M. Abdul. Hannan

M. Abdul. Hannan

২০১২.০১.২৩ ১০:৩৪
এতো দেখছি ১৫ই আগসটের থেকেও আরেকটা ভয়াবহ ডিসেমবর হতে যাইতাছিল। কারন ১৫ই আগসটে কোন মেজর জেনারেল বা ব্রিগেডিয়ার জড়িত থাকার নাম শুনিনি।

noyonika

noyonika

২০১২.০১.২৩ ১০:৪৫
একটি তথ্যবহুল নিউজ প্রকাশের জন্য প্রথম আলোকে ধন্যবাদ। সেনাবাহিনীর মধ্যেকার আরো গোপন তথ্য বের করে দোষীদের শাস্তি কামনা করছি।

Md. Shahidullah

Md. Shahidullah

২০১২.০১.২৩ ১০:৫২
বাঘ আসিল বাঘ আসিল বলিয়া তামাসা করিতে করিতে সত্যিই একদিন বাঘ আসিয়া পড়িতে পারে... সাবধান !

robiul

robiul

২০১২.০১.২৩ ১০:৫৫
যাদেরকে দোষী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে তাদেরকে মিডিয়ার সামনে উপস্থিত করে জাতিকে দেখানো হোক।

S.M. Arman

S.M. Arman

২০১২.০১.২৩ ১১:০০
সেনাবাহিনীতেও হিযবুত তাহরীর !!! খুবই শংকিত বোধ করছি।

আ.লীগের প্রতিক্রিয়া ব্যর্থ হয়ে এখন তারা উল্টাপাল্টা বকছে

সরকারি দল আওয়ামী লীগ বলেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যেই ধারণা করা যায়, ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানচেষ্টায় তাদের ইন্ধন ছিল।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ প্রথম আলোকে এ কথা বলেন।
হানিফ বলেন, মির্জা ফখরুল একদিকে এ ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে শুকরিয়া আদায় করেছেন। এখন ব্যর্থ হয়ে তাঁরা উল্টাপাল্টা কথা বলে নিজেদের রক্ষা এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। বিএনপি যে হত্যা-ক্যুর রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য এই প্রথম সামরিক বাহিনী সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। তারা নিশ্চিত হয়েই তা প্রকাশ করেছে।
জনাব হানিফ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল পূর্ণ তদন্ত চান। আমরাও জানতে চাই, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, নামটা বলুন।’ তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় খালেদা জিয়া ভোরে বাসভবন ছেড়ে পালিয়েছিলেন। আর এবার ডিসেম্বরে তিনি সরকার পতনের কথা বলেছিলেন। এই ডিসেম্বরেই ক্যুর চেষ্টা করা হয়। আবার ১৮ ডিসেম্বর চোরাগোপ্তা হামলা করার চেষ্টা করে বিএনপি-জামায়াত। এসব ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অভ্যুত্থানচেষ্টার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলে, তারা সেনাবাহিনীকে নিয়ে রাজনীতি করতে চায়। অভ্যুত্থানচেষ্টার হোতাদের রক্ষা করার জন্যই মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য



সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন

রহমান

রহমান

২০১২.০১.২৩ ০৩:২৫
ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জড়িত বিএনপির নির্বাচনে লড়ার ক্ষমতা কেড়ে নেয়া উচিত।

Ali

Ali

২০১২.০১.২৩ ০৪:৩৩
নোরা রাজণিতির বহিপকাশ। কাদা ছ্বরা ছৃরি আর কত দিন করবেন।

ABDUL MAJID QUAZI

ABDUL MAJID QUAZI

২০১২.০১.২৩ ০৫:১৭
যারা গনতন্ত্র ও নির্বাচনে বিশ্বাস করেনা, যারা যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চায়না - তারা যে এই কাজের ইন্দন যোগাচ্ছে তা জনগন ভাল করে বুঝে। বাংলাদেশের জনগন বিশ্বের সবচেয়ে স্বচেতন নাগরিক। দুর্ভাগ্য তারা সৎ নেতৃত্ব পাচ্ছেনা । শিল্পোন্নত বিশ্বে জনগন কাজ আর বারে সময় কাটায়। বাংলার জনতা কাজের পর আত্ম সমালোচনা না করলে ও রাজনীতির ব্যাখ্যা বিশ্লেষনে সময় ব্যয় করে।

Tayyip Rahman

Tayyip Rahman

২০১২.০১.২৩ ০৫:২৬
I agree with Ashraf. I want to know why Khaleda threatened present govt on a speech last month. Why Khaleda fled during BDR revolt and where did she go?

ibne mizan

ibne mizan

২০১২.০১.২৩ ০৫:২৭
আসলেই আওয়ামী লীগের অর্জন কি? তারা জাতিকে কি কিছু দিয়েছে? বিএনপি ই বা কি করেছে?
কিন্তু সেহেতু কেউ ই কিছু দিতে পারছে না। তাই জনগন বার বার পরিবর্তন চায়।

Shopon

Shopon

২০১২.০১.২৩ ০৫:৩২
When government is failer in all sector than they creat this story to move our eys.I really don't belive them.If it's really happend,how they acuse someone before investigate????????
it's really so pathetic fo our Nation.

daud rahman

daud rahman

২০১২.০১.২৩ ০৬:০৮
হানিফ সাহেব, আপনারাও জনগনের বিচারবুদ্ধিকে এত নিচুস্তরের মনে করবেন না ৷ তথ্য এবং প্রমানসহ বলুন বিএনপির ভুমিকা কি৷ ইচ্ছামত যা মনে হয় তাই দিয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য চরিতার্থ করবেননা৷ আওয়ামী লীগের ইতিহাস আর ভুমিকাকে অপমান করবেননা৷

mohammad rahman

mohammad rahman

২০১২.০১.২৩ ০৬:৩০
এভাবে চলতে থাকলে একদিন ঘটনা সবার নিয়নএনের বাইরে চলে য়াবে। তখন পরসপরকে দোষ দেয়ারও আর সুযোগ পবেন না।

Utpol Shaha,England

Utpol Shaha,England

২০১২.০১.২৩ ০৭:৪৯
দু-দলের এ ধরনের ঝগড়া দেখে বিদেশের ক্যাম্পাসে আমাদেরকে সহপাঠিদের কাছে হেয় হতে হয়।

মনিরুজ্জামান

মনিরুজ্জামান

২০১২.০১.২৩ ০৮:০৭
সব ঘটনা এক সুতরে বাধা মনে হয়, মির্জা ফখরুলের বক্তব্য, বি এন পি জামাতের কাজ সব মিলিয়ে আমরা ব্যপারটি উড়িয়ে দিতে পারছি না। আশাকরি তদন্তে সব বের হয়ে আসবে।

Mahmudul Islam

Mahmudul Islam

২০১২.০১.২৩ ১০:১০
বড়ই মজা পাইলাম।

Rashad Ahemd

Rashad Ahemd

২০১২.০১.২৩ ১০:১৪
বাংলার জনতা-দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, গুম, খুন, হত্যা-অপহরণ যখন নিত্যকার ঘটনা, তখন এসব সংকট নিরসনে ব্যর্থ সরকার দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে।

Joy

Joy

২০১২.০১.২৩ ১০:২০
জন্মপরিচয়হীন এই সব রাজাকারের দল বিএনপি আর জামায়াতের বিরুদ্ধে আসুন আমরা সবাই সোচ্চার হই।

Ali Ahsan

Ali Ahsan

২০১২.০১.২৩ ১০:৩০
High-bred Leader.
Mr. Hanif is loosing image of AL.

Arifur Rahman Jyoty

Arifur Rahman Jyoty

২০১২.০১.২৩ ১০:৪১
এই নোংরা রাজনীতি ভালো লাগেনা।

Muhammad Foysal

Muhammad Foysal

২০১২.০১.২৩ ১০:৪৩
দুই দলের হাত থেকে আমাদের বাচানোর মত কেউ কি আসবেনা ?

M. Abdul. Hannan

M. Abdul. Hannan

২০১২.০১.২৩ ১০:৪৬
সব কিছুই যুদধঅপরাধিদের বাচানোর অপচেষটা মাএ। তবে ৭১ এর সেই পরাজিত শক্তি এখনও যে কত ভয়ংকর সেটা আবারও দেখা যাচছে। এদেরকে যত তাড়াতাড়ি উচিত সমুলে উৎপাটন করা। এদের আর সুযোগ দেয়া উচিৎ না।

T Alahee

T Alahee

২০১২.০১.২৩ ১০:৪৯
কিন্তু মানুষ তো অন্য কথা বলছে। তারা বলছে, আপনাদের জনসমর্থন যে হারে কমে যাচ্চে তাতে আগামী ইলেকশন আসার আগেই তা তলানীতে গিয়ে ঠেকবে।

N. Hasan Razu

N. Hasan Razu

২০১২.০১.২৩ ১০:৫৪
আ: লীগ/বিএনপি র কথায় কান না দেয়াই ভাল। এরা যাদের স্বৈরশাসক বলে, ক্ষমতার লোভে তাদেরই পেছন পেছন ছুটে । লজ্জা তখন আমাদেরই পেতে হয়।

Md.Faroque Hossain

Md.Faroque Hossain

২০১২.০১.২৩ ১০:৫৫
brothrer Joy, if we stand against b.n.p and Jamat, what will be our benefit? what do we get from our present goverment? did they work for people?

mohammed shamim

mohammed shamim

২০১২.০১.২৩ ১০:৫৫
It's realy very funny. What is the real ???????????

বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সরকার প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে: বিএনপি

সেনা অভ্যুত্থান সফল না হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়েছে বিএনপি। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, তদন্তাধীন বিষয়ে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাষায় অসম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। দলটি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
গতকাল রোববার বিকেলে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল করতে বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা একই সূত্রে গাঁথা।
লিখিত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের হীন উদ্দেশ্যে একটি স্পর্শকাতর ঘটনাকে ব্যবহার করতে চাইছে। সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে তারা ঘটনার বিবরণের সঙ্গে বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত করার নির্দেশনা দিয়েছে। সেনাসদরের সংবাদ সম্মেলনে এমন কিছু মন্তব্য চলে এসেছে, যেগুলো রাজনৈতিক রঙে রঞ্জিত। কিছু কটাক্ষমূলক মন্তব্য ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকার মহাসংকটে পড়েছে। তাই গত ডিসেম্বরে সংঘটিত একটি পুরোনো কাহিনির অসম্পূর্ণ প্রচার করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, জনগণের দৃষ্টিকে অন্য খাতে প্রবাহিত করা। তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করা এবং তাদের দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ার হিসেবে অপব্যবহারের বিপজ্জনক খেলা থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ-ও বলেন, ‘একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনায় বিএনপি গভীরভাবে উৎকণ্ঠিত। অভ্যুত্থান সফল না হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই। তাঁর অপার অনুগ্রহে রক্তপাত ও সংঘাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং অসামরিক শাসন ও সাংবিধানিক ধারা বজায় রয়েছে।’ তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীতে কোনো বিভেদ-বিভাজন, হঠকারিতা-বিশৃঙ্খলা বিএনপি দেখতে চায় না। সেনা ছাউনিগুলোতে অবিশ্বাস, হানাহানি, দ্বন্দ্ব, সংঘাত চায় না। তিনি সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, যেকোনো উসকানির মুখে হঠকারিতা পরিহার করুন। ভেতরে শত্রুর গুপ্তচরেরা ঢুকে যেন কোনো ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।
অভ্যুত্থান-চেষ্টা সফল না হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়, আবার এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্ববিরোধিতা কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী কিছু নেই। বিএনপি সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ঘটনাটি প্রকাশের পর থেকে খোদ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরাসহ শাসক দলের বিভিন্ন ব্যক্তি এবং ভারতীয় প্রচারমাধ্যম যেভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অসত্য, বিভ্রান্তিকর, দায়িত্বজ্ঞানহীন, উসকানিমূলক, আক্রমণাত্মক একতরফা মন্তব্য করে চলেছেন, তার জবাব দেওয়া বিএনপির প্রয়োজন।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা, গুম, খুন, হত্যা-অপহরণ যখন নিত্যকার ঘটনা, তখন এসব সংকট নিরসনে ব্যর্থ সরকার দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে।
বিএনপির এই নেতার অভিযোগ, বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য শাসক দলের চিন্তারই প্রতিফলন। ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তাকে লগ এরিয়ায় সংযুক্ত করার খবর এসেছে। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে শুধু মধ্যম সারির কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যর্থ অভ্যুত্থান-চেষ্টায় জড়িত বলে জানানো হয়েছে। প্রচারিত তথ্যে তদন্ত আদালত কাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে, জানানো হয়নি। কিছু যোগাযোগের তথ্য ছাড়া অভ্যুত্থান-চেষ্টার বিশদ কোনো বিবরণও দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, একটি গুরুতর ও স্পর্শকাতর বিষয় উপস্থাপনের সময় রাজনৈতিক ধাঁচের বক্তব্য দিয়ে যাতে বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
ভারতের গণমাধ্যমে এ ঘটনার সঙ্গে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জড়িত থাকার সংবাদ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেনা অভ্যুত্থান-চেষ্টার ঘটনা নিয়ে ভারতীয় প্রচারমাধ্যম বিভিন্ন মতলবি প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা অসত্য, মিথ্যা ও বনোয়াট কাহিনি ছেপেছে।’

পাঠকের মন্তব্য



সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন

RAM KANAI DAS

RAM KANAI DAS

২০১২.০১.২৩ ০৩:১৪
ভুতের মুখে রাম নাম.........

ABDUL MAJID QUAZI

ABDUL MAJID QUAZI

২০১২.০১.২৩ ০৫:১৮
মাচের মার পুত্র শোক !

Tayyip Rahman

Tayyip Rahman

২০১২.০১.২৩ ০৫:২৯
Fakhrul is putting the best of BNP. But we are not blind. Hundreds of main stream AL leaders killed when BNP was in power. Ballot should change the govt not back door coup.

Mohamed S Rahman

Mohamed S Rahman

২০১২.০১.২৩ ০৫:৫০
বি এন পি কিংবা বি এন পি'র কে ষড়যংত্রমূলক রাজনীতি ও কু'দেতায় বিশ্বাস করে না। কিন্তু ১৯৭৭ এর ৩রা অক্টোবর যে কু'দেতার সৃষ্টি হয়েছিল এ কয়েকশত বিমান সেনাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল এবং কয়েক হাযার বিমান সেনাকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও চাকুরীচ্যুত করা হয়েছিল তা কে করিয়েছিল?

mohammad rahman

mohammad rahman

২০১২.০১.২৩ ০৬:২২
সিমান্তের ঘটনা অন্য দিকে চালানোর আর একটা সুযোগ !!

মনিরুজ্জামান

মনিরুজ্জামান

২০১২.০১.২৩ ০৮:৩৫
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের হীন উদ্দেশ্যে একটি স্পর্শকাতর ঘটনাকে ব্যবহার করতে চাইছে।--------পানি ঘোলা করেছেন, সরকার তো মাছ শিকার করবেই।

nurul absar hussain

nurul absar hussain

২০১২.০১.২৩ ০৯:৩০
মির্জা সাহেব আসা করি সেনা বাহিনীকে বিতর্কিত করিবেন্ না. কারণ আপনাদের জম্মই সেনাবাহিনীর অনুকুল্ল্যে.আর দেশের লোক এখনো আপনাদের রাজনীতিক নামক লোক হইতে ওই সেনাবাহিনীর উপর আস্তা রাখে বেশি.

Onushandhani

Onushandhani

২০১২.০১.২৩ ০৯:৪৫
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরাসহ যেভাবে কথা বলছেন তাতে এই ঘটনা আর বিশ্বাস হয়না।

Onushandhani

Onushandhani

২০১২.০১.২৩ ০৯:৫৯
মন্তব্য করে লাভ নাই কারন কাটাকাটি করার লোকের কাটাই আসল কাজ।
২০১২.০১.২৩ ১০:২১
BITTER TRUE : Some one is benefited from BDR incident now they plot for Bangladesh amy.

M. Abdul. Hannan

M. Abdul. Hannan

২০১২.০১.২৩ ১০:৩৮
মির্জা সাহেব- ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনা !