kazi ashraful islam

kazi ashraful islam

Saturday, January 28, 2012

মহাজোট ফুটন্ত কড়াই : আর বিএনপি-জামায়াত জলন্ত চুলা

যাযাদি রিপোর্টবাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, মহাজোট সরকারের তিন বছরে এ দেশের মানুষ কিছুই পায়নি। এ সময় দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, কিন্তু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ডাবল ডিজিট ছুঁয়েছে মূল্যস্ফীতি। অথচ মানুষের আয় এক জায়গায় স্থির হয়ে আছে। ফুটন্ত কড়াইয়ের অসনীয় উত্তাপে দেশবাসীর জীবন আজ অসহনীয়! তাই দেশবাসী ফুটন্ত কড়াই থেকে বাঁচতে চায়। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত উদ্ধারকর্তার মুখোশ পরে হাজির হয়েছে। কিন্তু তারা কি মানুষের যন্ত্রণা থেকে উদ্ধার করতে পারবে? কারণ, মহাজোট যদি 'ফুটন্ত কড়াই' হয়, তাহলে বিএনপি-জামায়াত 'জ্বলন্ত চুলা'। একদিকে আপদ, অন্যদিকে বিপদ। আপদ-বিপদের বাইরে আছে 'মহাবিপদের' মহাসঙ্কেত। জামায়াত-শিবিরসহ অসংখ্য সশস্ত্র জঙ্গি সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মার্কিন-সৌদি টাকায় ষড়যন্ত্রের ছোবল হানতে উদ্যত হয়েছে। বিএনপিকে তিনি জামায়াতের সংশ্রব ত্যাগ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জনতার সংগ্রামে শামিল হতে আহ্বান জানান। শুক্রবার রাজধানীর মৎস্য ভবন সড়কে সিপিবির খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমাও, জান বাঁচাও, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং জনজীবনের সঙ্কট নিরসনে ১১ দফা দাবিতে আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মঞ্জরুল আহসান খান। সভা পরিচালনা করেন রুহিন হোসেন প্রিন্স। দীর্ঘ ১১ বছর পর অনুষ্ঠিত সিপিবির জাতীয় সমাবেশে সারাদেশের সব জেলা-উপজেলা থেকে পার্টির হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে যোগ দেন। তারা কাস্তে-হাঁতুড়ি খচিত লালপতাকা হাতে সমাবেশে আসেন। মূল বক্তব্যে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, রাজনীতি বাদ দিয়ে দেশ চালানোর চেষ্টায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ইন্ধন দিচ্ছে। এসব দলে দলবাজি আছে। কিন্তু রাজনীতি থাকে না- আছে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও ক্যাডারবাজি। সমাবেশে রাজনৈতিক বক্তব্য নেই। আছে নেতা-নেত্রীর নামে জিগির করা, ছবির প্রদর্শন, নমিনেশন বাণিজ্য। এসব দলের নাম বদলে 'তদবির দল' বা 'তদবির লীগ' করলেই ভালো। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী বলেন- সব কিছু ভালো আছে। দ্রব্যমূল্য ৬ নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। দ্রব্যমূল্য বাড়লে শেখ হাসিনা সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারের কাজ বাজার করবে। এর আগে খালেদা জিয়ার একমন্ত্রী বলেছেন, 'আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়েছে'। সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের অকাল মৃত্যু সম্পর্কে সম্প্রতি এমন কথা একজন প্রতিমন্ত্রীও বলেছেন, অকাল মৃত্যু বলে কিছু নেই। এ ধরনের কথা ইসলামবিরোধী। কারণ জন্ম-মৃত্যু-হায়াৎ-মউত সব আল্লাহর হাতে। যারা বলে তারা ইসলাম মানে না। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য রেসনিং ব্যবস্থা চালু, টিসিবিকে শক্তিশালী করতে হবে। ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু, বিএডিসিকে শক্তিশালী করতে হবে। বাফার স্টক গড়ে তুলতে হবে। ক্রেতা ও উৎপাদকদের সমবায় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে গণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু সরকার এসব করবে না বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, সামাজ্যবাদের কারণে। তাই তিনি শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে কমিউনিস্ট পার্টিকে সরকার চালাতে দিতে বলেন। তিনি বলেন, মহাজোট সরকার বিদ্যুৎ, পেট্রল-ডিজেল-কেরসিনের দাম বাড়িয়েছে। পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। সারের দাম বাড়িয়েছে। কোথায় গিয়ে এর শেষ হবে? ডলারের দাম বেড়েছে, টাকার দাম কমেছে। ব্যাংকে নগদ টাকা কমে গেছে। তারল্য সঙ্কট চলছে। ব্যাংক ঋণের বেশিরভাগ সরকার নিয়ে নিচ্ছে। নতুন মুদ্রানীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে। অর্থনীতিতে ভয়াবহ মন্দার পদধ্বনি স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। একটি বড় বিপদ সামনে। বিপদের লালবাতিকে অস্বীকার করাটা আরো বড় বিপদ বাড়ানোর চেষ্টা করা। তিনি বলেন, শেয়ার মার্কেটে ৩০ লাখ ক্ষুদে বিনিয়োগকারী পথে বসেছে। ৬০ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। সরকারের মন্ত্রী বলেছেন, শেয়ারবাজারে সাত হাজার ইনডেক্স স্বাভাবিক, ১০ হাজার ইনডেক্স অস্বাভাবিক। এখন ইনডেক্স চার হাজারে নেমে এসেছে। এটা কিসের লক্ষণ? তিনি বলেন, '৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের ধারা থেকে দেশকে পাকিস্তানি ধারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে সেই ধারাকে সংবিধানে ঢুকানো হয়েছে। কদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট এসব সংবিধান বাতিল করলে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ দল। মহাজোটের পঞ্চদশ সংশোধনীর সুবাদে জামায়াতকে সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এরশাদের 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' ও জিয়াউর রহমানের 'বিসমিল্লাহ' বহাল রাখা হয়েছে। মুজিবের দিক থেকে আওয়ামী লীগ বিএনপির দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, আপদ-বিপদ ও নতুন সংস্করণ ওয়ান ইলেভেনের বলয় থেকে দেশকে উদ্ধার করতে সিপিবি কমিউনিস্ট ঐক্যের ও বামপন্থীদের ঐক্যের ডাক দেন। মঞ্জরুল আহসান খান বলেন, তেল, গ্যাস, কয়লাসহ সব কিছুর সঙ্কট চলছে। দেশের সম্পদ লুটপাট করা হচ্ছে। গ্যাস, কয়লা লুটপাট করা হচ্ছে। আমরা দেশের সম্পদ লুটপাট করতে দেব না। তিনি বলেন, কুইক রেন্টালের নামে কুইক সরকারদলীয়দের পকেট ভারি করা হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে এসব বন্ধ করতে হবে। দেশে এখন কেবল খাই-খাই পার্টি। নদী-খাল-বিল সব খেয়ে ফেলছে। পুকুর চুরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাশে ছিল। প্রতিবেশী সব দেশের সাথে সার্কভুক্ত দেশগুলোর আমরা বন্ধুত্ব চাই। ভারতের সাথে আমরা বন্ধুত্ব চাই কিন্তু কাটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না। সীমান্তে অব্যাহত হত্যাকা-, তিস্তা, ফারাক্কা, টিপাইমুখ বা অন্যান্য অভিন্ন নদীর উপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বন্ধুত্ব হয় না। তিনি বলেন, সম্প্রতি সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা দমন করা হয়েছে। অতীতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। দুজন রাষ্ট্রপতি, জাতীয় নেতারাসহ অনেককে হত্যা করা হয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে আমরা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না। আমরা সাধুবাদ জানাই। এছাড়া তিনি ২০০১ সালে পল্টন বোমা হামলার বিচার দাবি করেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ বলেন, কিছুসংখ্যক কুলাঙ্গারের সহায়তায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনী হত্যা, লুণ্ঠন ও মা-বোনদের ধর্ষণ করেছিল। তাদের বিচার হয়নি। এই বিচার এ সরকার শুরু করলেও দেরি করে ফেলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিলম্ব করে ফেলেছেন। তলে তলে আতাতের কথাও শুনি। তিনি প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রসঙ্গে বলেন, যদি বন্ধুত্ব চান অভিন্ন ৫৭টি নদীর ওপর কোনো ধরনের স্থাপনা তৈরি করবেন না। প্রেসিডিয়াম সদস্য সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, স্থায়ী মজুরি কমিশন গঠন ও গার্মেন্ট শ্রমিকদের নূ্যনতম মজুরির দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি। সরকার মজুরি কমিশনের সুপারিশ না মেনে অগ্রহণযোগ্যভাবে মালিকপক্ষের কথায় মজুরি নির্ধারণ করেছে। বর্তমান শ্রম আইন শ্রমিকদের শোষণের বৈধ হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেন, আমরা এত বছরেও দেশপ্রেমিক সরকার পেলাম না। আমার দেশের গ্যাস, কয়লা যারা বিদেশিদের হাতে তুলে দেয় তারা দেশ কি দেশপ্রেমিক সরকার? আফগানিস্তান, ইরাকে বোমা ফেলতে আমেরিকাকে আমার দেশের আকাশ, নৌ ও সড়কপথ ব্যবহার করতে দেয়া হয় তারা দেশপ্রেমিক সরকার! তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার আমেরিকার সাথে সোফা চুক্তি করেছে। আমেরিকার সেলজাররা আমার দেশে যে কোনো পথে বিনা পাসপোর্টে ঢুকতে পারবে। এদেশে ধর্ষণ ও খুন করতে পারবে কোনো বিচার হবে না; লজ্জা, লজ্জা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তার সরকারকে আমেরিকা সরিয়েছিল। তাই বোধহয় তিনি ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে সব গ্যাস আর কয়লা আমেরিকাকে দিয়ে খুশি করতে চান। প্রবীণ সদস্য জসীম উদ্দিন ম-ল বলেন, ছোট জাত না মারলে বড় জাত হওয়া যায় না। দামি রেশমি শাড়ি তৈরি করব আমি কিন্তু সেটা আমার কপালে নাই। এ দেশের মালিক আমেরিকা আর সামাজ্যবাদ। তিনি বলেন, বিদেশের সঙ্গে চুক্তি করব যদি সেই চুক্তি তারা ভঙ্গ করে, তবে তাদের তালাক দেব। সভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্ষেতমজুর নেতা শাসচ্ছুজ্জামান সেলিম, কৃষক নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন, নারী নেত্রী লক্ষ্মী চক্রবর্তী, গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনের নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, ঢাকা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব লাভলু, যুবনেতা কাফি রতন এবং ছাত্রনেতা ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল। প্রসঙ্গত দীর্ঘ ১১ বছর পর সিপিবি এই জাতীয় সমাবেশের আয়োজন করে। এর আগে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবি লালপতাকার মহাসমাবেশ করেছিল। পল্টনের ওই সমাবেশে বোমা হামলায় হিমাংশু, মজিদ, মোক্তার, হাশেম ও বিপ্রদাশ শহীদ হয়েছিলেন। অনেকে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। গতকাল সমাবেশ শেষে লালপতাকার মিছিল শাহবাগ-নিউমার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে সিপিবির ১১ দফা দাবি হচ্ছে- খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে জান বাঁচানো, গ্রাম ও শহরে গরিব মানুষের জন্য স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা, সরকারি ন্যায্যমূল্যের দোকান, ভোক্তা ও উৎপাদক সমবায় কার্যক্রম, টিসিবি ও বিএডিসির কার্যকর শক্তি বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত 'গণবণ্টন ব্যবস্থা' গড়ে তোলা। এছাড়া রয়েছে ভেজাল রোধ করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি প্রদানের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, টাকার খেলা বন্ধ, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুসহ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো, উপজেলাসহ স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোকে আর্থিক ক্ষমতাসহ পূর্ণ কর্তৃত্ব দিয়ে ক্ষমতায়ন করা। '৭২-এর সংবিধানের মূল ভিত্তির পরিপন্থী সামপ্রদায়িক ধারা বাতিল করা এবং বিভিন্ন জাতিসত্তার আদিবাসীদের জাতি পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও অন্যান্য অসম্পূর্ণতা দূর করে '৭২-এর সংবিধানের মূলভিত্তি পুন:প্রতিষ্ঠা করা, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, সামপ্রদায়িক, ধর্মান্ধ, উগ্র মৌলবাদী শক্তির তৎপরতা প্রতিহত করা। সার-ডিজেলসহ কৃষি উপকরণের দাম কমানো, প্রকৃত কৃষকের হাতে পাটসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, ক্ষেতমজুরদের সারাবছর কাজের ব্যবস্থা ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রদান করা। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার সহযোগীদের আধিপত্য ও চক্রান্ত প্রতিরোধ করা, সব গোপন চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করা এবং জাতীয় সংসদে পেশ করা, ট্রানজিট, তিস্তার পানিবণ্টন, অভিন্ন নদী শাসনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি-সমঝোতার প্রশ্নে বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বার্থরক্ষা ও পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সীমান্তে বিএসএফের হত্যা-নির্যাতন বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেয়া, পাঁচ হাজার টাকা জাতীয় নূ্যনতম মজুরি নির্ধারণসহ শ্রমিকদের উপযুক্ত মজুরি হার নির্ধারণ, স্থায়ী মজুরি কমিশন ও আইএলও সনদ মোতাবেক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান করা, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, যানজট, জলাবদ্ধতা, পরিবেশ বিপর্যয় ইত্যাদি সমস্যার জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির দাম বৃদ্ধি বন্ধ করা, ঘুষ-দুর্নীতি, বেপরোয়া চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, নদী-খাল-জলাশয় ভরাট ও দখল, তদবির-বাণিজ্য, সন্ত্রাস, ছিনতাই, যৌন-নির্যাতন, গুম-খুন, ক্রসফায়ার ও দমনপীড়ন বন্ধ করা। গৃহায়ণ, আবাসন, পরিবহন ও যাতায়াত, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, পরিবেশ প্রভৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধনিক তোষণ নীতির আমূল পরিবর্তন করে গণমুখী নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা। দেশ থেকে দারিদ্র্য, বেকারত্ম, বৈষম্য দূর করার ব্যবস্থা কর, সমুদ্র বক্ষে তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য কনোকো-ফিলিপসের সঙ্গে রপ্তানির সুযোগ রেখে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে স্থলভাগে অথবা সমুদ্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মাধ্যমে দ্রুত গ্যাস-তেল উত্তোলনের ব্যবস্থা করা এবং গ্যাস-তেল প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদের রপ্তানি নিষিদ্ধ করে সংসদে আইন পাস করা।

No comments:

Post a Comment